দুগার্পুর মুক্ত দিবস ও রক্তাক্ত বধ্যভূমি- বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ সোহরাব হোসেন তালুকদার

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি ভয়াবহ ঐতিহাসিক স্মরণীয় দিন ৬ই ডিসেম্বর। এই দিনে হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর রক্তয়ী রণত্রে সংগঠিত হয়েছিল। দুগার্পুর বিরিশিরি হানাদার বাহিনীর ক্যান্টনমেন্টে প্রায় দুই হাজার সৈনিক প্রস্তুত ছিল। ওই ক্যান্টনমেন্টের উত্তরে সোমেশ^রী নদীর পাড়ে বিশাল বড় প্রায় আড়াইশত ফুট উঁচু একটি শিমুল গাছে হানাদার বাহিনীর একটি ও.পি পোস্ট থেকে চতুর্দিকে নজরদারি করা হত। সীমান্ত এলাকার বিজয়পুরেও তাদের একটি শক্তিশালী ঘাটি ছিল। বিরিশিরি ক্যান্টনমেন্ট হতে হানাদার বাহিনী খন্ড খন্ড বিভক্ত হয়ে গ্রামাঞ্চলে টহল দিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের ধরপাকড় ও নিযার্তন চালিয়ে যেত। হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশীয় দালালরা হানাদার বাহিনীর নির্দেশে শান্তি কমিটি গঠন, রাজাকার বাহিনী ও গেরিলা বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগসহ তাদের পিতামাতা স্বজনদের অমানুষিকভাবে নিযার্তন করে প্রতি রাত ৮/৯টার সময় সোমেশ^রী নদীর পাড়ে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়া হত। শুধু হত্যাযজ্ঞ নয় হানাদার বাহিনীর দোসরদের সহযোগিতায় বিত্তশালীদের বাড়িতে হামলা করে লুটপাটসহ মহিলাদের জাহেলীয়া কায়দায় নিযার্তন করে ধর্ষণ করা হত। দুগার্পুরের মধ্য বাজারে কালিশংকর সাহার দোতালা ঘরে হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আলবদর ও গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার মেজর মজিদ এর অফিস ছিল। এই মেজরের অফিস হতে এলাকার তথ্য তালিকা বিরিশিরি ক্যান্টনমেন্টে প্রেরণ করা হত। স্থানীয় দালাল রাজাকার গেরিলা বাহিনীর সহায়তায় ১ম তালিকায় থাকা পোড়াকান্দুলিয়া গ্রামের এম.এল.এ প্রভাষ ও ধনাঢ্য ব্যক্তি গৌরাঙ্গ সাহাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবতীর্ ধাপে দুগার্পুরের আলোকিত মানুষ নেত্রকোনা কলেজের অধ্যাপক আরজ আলীকে হানাদার বাহিনীর মেজর সুলতান নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করে। কয়েকদিন পর এম.কে.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক আঃ আউয়াল স্যারকে হত্যা করা হয়। যার নামে ইতিমধ্যেই আমি একটি রাস্তা নামাকরণ করে দিয়েছি। রাস্তাটি এম.কে.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখ ঘেষে রয়েছে। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক আশুতোষ সান্যালকে ঘোড়া বানিয়ে পিঠে ইটের বস্তা দিয়ে এবং হানাদার বাহিনীকে সোয়ারী করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম নিযার্তন করে এবং এক পযার্য়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ মালেকের পিতা মকবুল হোসেনকেও তখন হত্যা করা হয়। তাছাড়া বীরমুক্তিযোদ্ধা সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন তালকুদার এর বড় ভাই আকবর আলী তালুকদারকে এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা ফনিন্দ্র চন্দ্র দে’র বড় ভাই মনিন্দ্র চন্দ্র দে—কে হত্যা করা হয়। মনিন্দ্র চন্দ্র দে’র নির্মম হত্যার সময় তার স্ত্রী সুধা রানীর কোলে পাঁচ মাসের সন্তান সেফালী কেঁদে যাচ্ছিল। স্বামীর এই করুণ দৃশ্য দেখে সুধা রানী যে অন্তরাঘাত পেয়েছিল তা এখনো তাকে দেখলে বোঝা যায়। সুধা রানী যেভাবে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে বেঁচে আছেন তা প্রকাশ করার মত নয়। তার দু’চোখের কান্নার দাগ দেখে তার দুঃখকে অনুভব করা যায়। বীরমুক্তিযোদ্ধা আলা উদ্দিন আল আজাদ এর বড় ভাই নবাব আলী, বীরমক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ এর পিতা আহাম্মদ আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা জমির তালুকদারের বড় ভাই জালাল উদ্দিনকে একই সময় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের হত্যার সময় হানাদার বাহিনীর নির্মমতা ছিল ভয়াবহ। এমন বিভৎস অবস্থায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় যাতে করে তাঁদের দেখে এলাকার সবাই আতঙ্কিত ও নিশ্চুপ হয়ে যায়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শুধু লুটপাট আর হত্যা করে ান্ত হয়নি তারা আমাদের মা—বোনদের উপরও নির্মমভাবে অত্যাচার, নিযার্তন ও অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়েছে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে। স্থানীয় ছুট্টুনী মিয়া দুঃসাহসিকভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর একজনকে ঔদ্যত দা হাতে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। পরে ছুট্টুনী কান্ত হয়ে চিতলী বিলের পাড়ে হিজল গাছের নীচে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থায় তৎকালীন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও রাজাকার বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করে এবং তাকে সেখানে হত্যা করে। দুগার্পুর উপজেলার সবচেয়ে বেশি নারী ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করা হয় বাকলজোড়া ইউনিয়নে। রাজাকারের সংখ্যাও সেখানে বেশি ছিল বলে পরবতীর্তে জানা যায়। তাছাড়া চন্ডিগড়, দুগার্পুর, কুল­াগড়া, গাঁওকান্দিয়া, কাকৈরগড়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নেও রাজাকার দ্বারা নারীদের ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বাকলজোড়া ইউনিয়নের বীরমুক্তিযোদ্ধা ইসলাম উদ্দিনের সহোদর তিন ভাই ১। ফরিদ, ২। হাফিজ, ৩। নিজাম—দের হানাদার বাহিনী কতৃর্ক নির্মম হত্যার শিকার হতে হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যাদেরকে হত্যা করে

অত্রাঞ্চলকে রক্তাক্ত করেছে সে সকল বীর শহীদদের নামের তালিকা নিম্নে দেওয়া হল:
ক্রমিক নং নাম গ্রাম
০১. শহীদ আকবর হোসেন শ্রীরামখিলা
০২. শহীদ কৃষ্ণ চরণ নমঃ দাস শ্রীরামখিলা
০৩. শহীদ আকবর আলী তালুকদার গুজিরকোনা
০৪. শহীদ  যোগেস চন্দ্র পাল রামনগর
০৫. শহীদ আব্দুল জব্বার শ্রীরামখিলা
০৬. শহীদ শাহজাহান শ্রীরামখিলা
০৭. শহীদ যোগেস চন্দ্র পাল রামনগর
০৮. শহীদ হরি দাস লৌহ রামনগর
০৯. শহীদ আবু সিদ্দিক পূর্ব বাকলজোড়া
১০. শহীদ আব্দুল গনি সালুয়াকান্দা
১১. শহীদ দীরেন্দ্র পত্র নবীশ শ্রীরামখিলা
১২. শহীদ দীরেন্দ্র পত্র নবীশ বালিচান্দা
১৩. শহীদ নিত্য রঞ্জন বিশ্বাস কোনাপাড়া
১৪. শহীদ নিজাম উদ্দিন কোনাপাড়া
১৫. শহীদ আরব আলী রামনগর
১৬. শহীদ মমরোজ আলী নোয়াগাও
১৭. শহীদ আব্দুল কাদির নোয়াগাও
১৮. শহীদ জমির উদ্দিন মন্ডল নোয়াগাও
১৯. শহীদ সরাফত আলী নোয়াগাও
২০. শহীদ ফজিল মিয়া নোয়াগাও
২১. শহীদ মনির উদ্দিন বানিয়াপাড়া
২২. শহীদ ইমান উদ্দিন বানিয়াপাড়া
২৩. শহীদ প্রফুল­ চন্দ্র পন্ডিত বরইউন্দ
২৪. শহীদ সুধীর ঘোষ বরইউন্দ
২৫. শহীদ বজেন্দ্র কর্মকার নাগেরগাতী
২৬. শহীদ নোয়াজ উদ্দিন ফকির তেলাচি
২৭. শহীদ দিলবার হোসেন সরকার মেলাডহর
২৮. শহীদ বিল­াল হোসেন মেলাডহর
২৯. শহীদ হাতেম আলী আলমপুর
৩০. শহীদ ইমাম হোসেন মেলাডহর
৩১. শহীদ নিজাম উদ্দিন সরকার পিপুলনারী
৩২. শহীদ আফতাব উদ্দিন লীপুর

৩৩. শহীদ আবুল মনসুর লীপুর

৩৪. শহীদ আব্দুল বারেক শান্তিপুর
৩৫. শহীদ আজমত খা রামবাড়ি
৩৬. শহীদ লাল খা (লুৎফর) রামবাড়ি
৩৭. শহীদ বিনয় চক্রবর্তী পূর্ব কাকৈরগড়া
৩৮. শহীদ নিত্যা নন্দন চন্দ্র বর্মন সরিষতলা
৩৯. শহীদ নগেন্দ্র চন্দ্র বর্মন সরিষতলা
৪০. শহীদ িতিস চন্দ্র বর্মন
নগুয়া
৪১. শহীদ মোজাফর আলী গোপালপুর
৪২. শহীদ মংলা মিয়া গোপালপুর
৪৩. শহীদ রেজাউল করিম ফরাজি দুবরাজপুর
৪৪. শহীদ ইদু মিয়া গাঁওকান্দিয়া
৪৫. শহীদ হোসেন আলী গাঁওকান্দিয়া
৪৬. শহীদ মফিজ উদ্দিন গাঁওকান্দিয়া
৪৭. শহীদ মেহের আলী গাঁওকান্দিয়া
৪৮. শহীদ আব্দুল ছাত্তার গাঁওকান্দিয়া
৪৯. শহীদ হযরত আলী বিশ্বনাথপুর
৫০. শহীদ চাঁন মিয়া ভাদুয়া
৫১. শহীদ উপেন্দ্র চন্দ্র পাল তাতিরকোনা
৫২. শহীদ মনমোহন পাল তাতিরকোনা
৫৩. শহীদ সুরেষ চন্দ্র পাল তাতিরকোনা
৫৪. শহীদ রইছ উদ্দিন ফারংপাড়া
৫৫. শহীদ আব্দুল হামিদ নলুয়াপাড়া
৫৬. শহীদ আব্দুল মজিদ নলুয়াপাড়া
৫৭. শহীদ নুরুজ্জামান মেনকিফান্দা
৫৮. শহীদ নুরুল আমিন মেনকিফান্দা
৫৯. শহীদ মকবুল হোসেন মেনকিফান্দা
৬০. শহীদ মুখলেছ উদ্দিন মেনকিফান্দা
৬১. শহীদ আলী হোসেন চেয়ারম্যান (সংগ্রাম পরিষদ সদস্য) বহেরাতলী
৬২. শহীদ মমরোজ আলী শশারপাড়
৬৩. শহীদ বাবর আলী শশারপাড়
৬৪. শহীদ শহীদুর রহমান শশারপাড়
৬৫. শহীদ আইয়ুব আলী ভুলিপাড়া
৬৬. শহীদ জালাল উদ্দিন বহেরাতলী
৬৭. শহীদ উপেন্দ্র সাহা কুল­াগড়া
৬৮. শহীদ ভরত সাহা কুল­াগড়া
৬৯. শহীদ যুবেন রিছিল বহেরাতলী
৭০. শহীদ আব্দুল লতিফ কাকরাকান্দা
৭১. শহীদ রেনু মিয়া কাকরাকান্দা
৭২. শহীদ নিখিল রোরাম বিজয়পুর
৭৩. শহীদ নাহার বেগম লোহাচুড়া
৭৪. শহীদ হযরত আলী কনিকা
৭৫. শহীদ জবেদ আলী দেবথৈল
৭৬. শহীদ হরিশ চন্দ্র বর্মন শশারপাড়

এই তালিকায় অজ্ঞাতসারে কোন শহীদ ব্যক্তির নাম বাদ পড়ে থাকলে পরবতীর্তে জানা গেলে তা সংরণ করা হবে এবং আগামী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।
কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর কটুয়াকান্দা গ্রামে শহীদ আঃ গফুরের বাড়ি। তিনি বিয়ে করেছিলেন দুগার্পুর মিঠাপুকুর পাড়ে ফিরোজ মিয়ার মেয়ে জুবেদা খাতুনকে। আগস্ট’২৩ মাসে তাদের এখানে অর্থাৎ দুগার্পুরে এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ত্রে গবেষক তাহমিনা ছাত্তার তিনি মুক্তিযুদ্ধে পরিবার প্রধান হারা নারীর জীবনযুদ্ধ নিয়ে সাাৎকার নেন। সাাৎকারে আঃ গফুরের স্ত্রী জুবেদা খাতুন কান্নায় ব্যাকুল হয়ে বলেন, আমার স্বামী দশ মাসের শিশু সন্তান বাবলুকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করে চুমু খেয়ে নানা কথা বলছিলেন। ঠিক ওই সময়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে রাজাকার কমান্ডার মেজর মজিদ ও আলবদর গেরিলা কমান্ডার এছহাক মাল। পিতার কোল থেকে বাবলুকে টান মেরে ফেলে দিয়ে আঃ গফুরকে ধরে নিয়ে যায় তারা। তাকে শারিরীকভাবে অমানুষিক নিযার্তন করে দুগার্পুর মধ্য বাজারে কালি শংকর সাহার দোতালা ঘরের বারান্দায় কাঠের তালার সাথে বেঁধে রাখে। আঃ গফুর পথচারীদের অনুরোধ করে চিৎকার করেছিলেন। বলেছিলেন তার দশমাসের সন্তান বাবলুকে একনজর দেখাতে। কিন্তু সে সুযোগ আর হয়নি আঃ গফুর মিয়ার। পরে বিরিশিরি ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে বদ্ধভূমিতে গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। দুগার্পুর ইউনিয়নের বীরমুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার এর বাড়িঘর অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করে পাক হানাদার বাহিনীরা তার পিতা আব্দুল বারেক তালুকদার ও বড় ভাই আব্দুল খালেককে অমানুষিক নিযার্তন করে চায়না মোড়ে ব্রীজের নিচে ফেলে দেয়।

এ অঞ্চলে অনেক খন্ড খন্ড যুদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ঐতিহাসিক বিজয়পুর যুদ্ধ, টেংগাটি রনসিংহপুর নেতাই নদীর পাড়ে ও আড়াপাড়া যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধাগণ ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হতে থাকে। অতঃপর ৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাগণ সোমেশ^রী নদীর পশ্চিম পাড় দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। সেখানে ছিল স্নেকবিন্দু বাউল কোম্পানী ও জালাল তালুকদার কোম্পানী। সোমেশ^রী নদীর পূর্বপাড় দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে ফজলুর রহমান আকঞ্জি ও গনি কোম্পানী। মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমনে বিজয়পুর ক্যাম্প ছেড়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ৬ ডিসেম্বর ভোরে বিরিশিরি হেড কোয়ার্টার ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেয়। পরবতীর্ সময়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ বিরিশিরি ক্যান্টনমেন্টের দিকে তুমুল যুদ্ধ করে অগ্রসর হতে থাকে। নদীর পূর্ব পাশে ফজলুর রহমান আকঞ্জি ও গনি কোম্পানীর আক্রমনের ফলে হানাদার বাহিনী জারিয়া রাস্তা ধরে পিছু হটতে থাকে। এদিকে ভারতীয় মিত্র বহিনী পেছন থেকে মেশিনগান, টুইঞ্চ মর্টার ও রকেট লঞ্চারের কভারিং ফায়ারে আতঙ্কিত হয়ে হানাদার বাহিনী জারিয়ার ট্রেন যোগে ময়মনসিংহ অভিমুখে পলায়ন করে। পরদিন সকালে দেখতে যাই বিরিশিরি বদ্ধভূমি। নদীর পারে বেশ উঁচু কাশবনের ভেতর একটি ডুবার মধ্যে বেশ কিছু গলিত লাশ শিয়ালে ভক্ষণ করছে। লেখককে দেখে শিয়াল দৌড়ে পলায়ন করতে থাকে। ১৯৭১ সালের সেই রক্তাক্ত বদ্ধভূমির স্মৃতি আজও জাগ্রত হয়ে ওঠে।
৬ই ডিসেম্বর শত্র“মুক্ত হয় দুগার্পুর। জয় বাংলা শ্লোগানে সাধারণ মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে স্বাধীনতার উল্লাসে রাস্তায় নেমে আসে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।