হাওড়াঞ্চলে পানি নামছে ধীরে: বোরোর চাষাবাদ নিয়ে শংকিত চাষিরা

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণার হাওড়াঞ্চলে ধীরগতিতে পানি কমার কারণে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে বোরো আবাদের চাষবাদ দেরিতে শুরু হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ কারণে একদিকে যেমন ফলন কমে যাবে অন্যদিকে আগাম বন্যায় ফসলহানিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তবে, পানি নামতে দেরী হলেও এরিমধ্যে হাওড়ে ফসল রক্ষা বাঁধের জন্য পিআইসি গঠন করা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

হাওড়পাড়ের কৃষকেরা জানান, হাওরপারের মানুষের একমাত্র ফসল বোরো। এর ওপর কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, আচার-অনুষ্ঠান ও সন্তানদের পড়ালেখা নির্ভর করে। কিন্তু এবার পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে এখনো বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না। অন্য বছর নভেম্বরের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে বপন করা হয়। ডিসেম্বরের শেষের দিকে জমিতে চারা রোপণ শুরু হয়। কিন্তু এ বছর দেরি হতে পারে। সঠিক সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে না পারলে আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা থাকে।

খালিয়াজুরির বোয়ালি গ্রামের কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, দেরিতে বীজ বপন করলে জমিতে চারা লাগাতেও সময় লাগবে। এ সময় শীত চলে আসবে। ভালো চারা না হলে ভালো ফসলও হয় না। আবার ফসল পাকতে দেরি হওয়ায় আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

খালিয়াজুরীর পুরানহাটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম তালুকদার ও স্বাগত সরকার বলেন, ‘হাওড়ে পানি নামতে দেরী হচ্ছে। একারণে বোরো ধান রোপন করতেও দেরি হবে। পরে তা কাটতেও দেরি হবে। আর এজন্য আগাম বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে বছরের একমাত্র বোরো ফসল। তাই গত বারের মতো এবারো হাওড়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। যাবে কৃষকরা বছরের একমাত্র ফসল ঘরে তুলতে পারে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরে ৩১০ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে রয়েছে ১৮৫ কিলোমিটার। এসব বাঁধের ওপরও কৃষকদের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এই ফসল রক্ষা বাঁধগুলো উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মেরামত করে থাকে। এবার পানি না কমায় বাঁধের জরিপকাজ শুরুতে দেরি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ‘হাওরে এবার পানি ধীর গতিতে নামছে। পানি দ্রুত নেমে যেতে আমরা ইতিমধ্যে যেসব পানি নিষ্কাশন কাঠামো বা জলকপাটের পলি জমেছিল তা সরিয়ে দিয়েছি। এছাড়া নিয়ম মেনে এরই মধ্যে ১৬১টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এবার বন্যায় বাঁধে ক্ষতি বেশি হওয়ায় আরও ১০/১২টি পিআইসির প্রয়োজন হবে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা কমিটির সভা হয়েছে। বীজতলা প্রস্তুতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া হাওড় পাড়ের কৃষকদের উফসী জাতের ধানসহ যে সব ধান দ্রুত কাটা যায় সেসব ধান রোপনের পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।