নেত্রকোণার সড়কে মানুষের ঢল : যে যেভাবে পারেন ছুটছেন কর্মস্থলে

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় পথে পথে দুর্ভোগে পড়েছে কর্মস্থলে ফেরা পোষাক শ্রমিকরা। হঠাৎ করে কারখানা খুলে দেওয়ার সিন্ধান্ত হওয়ায় রাত থেকেই হেঁটে কর্মস্থলে ফেরা শুরু করেছে শ্রমিকরা। তবে,সড়কে যানবাহন না থাকায় হাজার হাজার পোষাক শ্রমিক পরেছে বিপাকে। উপান্তর না দেখে পিকাপ ভ্যানে করে গাদাগাদি করে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা।
জানাযায়, টানা ১৪ দিনে লকডাউনের নবম দিনে হঠাৎ করেই পোষাক কারখানা খুলে দেয়ায় সিদ্ধান্তে সড়কে নেমেছে মানুষের ঢল। যে যেভাবে পারে ছুটছে কর্মস্থলে। কিন্তু চাকুরী টিকাতে যাত্রা শুরু করে পরেছেন বিপাকে। কারণ যানবাইন নেই। রিক্সা-ভ্যানে করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পথ চলছে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ।
সড়কে যানবাহন না থাকায় হাজার হাজার পোষাক শ্রমিক। পিকাপ ভ্যানে করে গাদাগাদি করে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। তাও আবার একশ টাকা ভাড়া লাগছে পাঁচশ টাকা। নেত্রকোনা থেকে গাজিপুর পর্যন্ত একেকজনের দিতে হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এই অবস্থাতে সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তে বিপদে পরেছেন খেটে খাওয়া মানুষ। করোনার আতংঙ্ক ভুলে জীবন জীবিকার তাগিদে এসব মানুষের সামনে লক্ষ্য একটাই। যেকোনো মূল্যে কর্মস্থলে ফেরা।
কলমাকান্দার সিধলী গ্রামের পোষাক শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, ‘হঠাৎ করে শিল্প-কারখানা, গার্মেস্ট ফ্যাক্টরী খুলে দিয়েছে। সড়কে কোনো প্রকার যানবাহন নেই। এদিকে মালিক পক্ষ জানাচ্ছে সঠিক সময়ে অফিসে হাজির না হলে চাকুরী চলে যাবে। এখন আমরা কি করবো ? এরমধ্যে গোপনে পিকআপ-ভ্যান, ট্রাক, এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে যাওয়ার প্রস্তুুতি নিলেও পুলিশ বাঁধা দিচ্ছে। নেত্রকোনা থেকে ঢাকা কি হেঁটে যাবো? জীবন বাঁচাতে পেটের তাগিদে হেঁেটে রওনা হলাম। জানি না কখন পৌঁছাবো।’

বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের পোষাক শ্রমিক আবুল কাশেম বলেন, ‘যদি অফিসে নাই স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। মালিক পক্ষ বলেছে, সময় মতো অফিসে না গেলে চাকুরী চলে যাবে। এখনও সময় আছে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যব্যাধি মেনে লকডাউন শিথিলসহ যানবাহন চলার ব্যাবস্থা করা হোক। সকল শিল্প-কারখানা, গার্মেস্ট ফ্যাক্টরীর শ্রমিক-কর্মচারীরা নিজ নিজ এলাকায় কঠিন আন্দোলন ও সড়কে অবরোধ কর্মসূচী পালন করবো। তবে মালিক পক্ষের নিকট আমাদের দাবি তাদের পক্ষ হতে যাতায়াতের ব্যাবস্থা করা হোক। আমাদের ওপর অন্যায়-অবিচার না করা হোক।’
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর গ্রামের সবুজ মিয়া বলেন, নেত্রকোনা হতে ঢাকার বাসের যাত্রী ভাড়া ৩০০ টাকা।শনিবার শ্রমিক-কর্মচারীরা ২৫০০ টাকা ভাড়া দিয়েও যানবাহন পাচ্ছেন না। কেউ কেউ পিকআপ-ভ্যান, ট্রাক, এ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ছুটছেন কর্মস্থলে। নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহে রিকশা-ভ্যান, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, সিএনজি করে যেতে ৫০ টাকা ভাড়ার মধ্যে দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা। এছাড়াও নেত্রকোনা হতে ত্রিশাল, ভালুকা, মাস্টার বাড়ি, গাজীপুর পর্যন্ত ভাড়া চাচ্ছে ১০০০ হতে ১৫০০ টাকা। কি করবো ? পকেটে টাকাও নেই।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা উদ্বোতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সরকারী সিদ্ধান্ত পেলে পোষাক শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার বিষয়টি নমনীয় করা যেতে পারে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।