নেত্রকোণায় গৃহহীন আরও ২৪ হিজড়া নতুন ঘর পাচ্ছেন

বিশেষ প্রতিনিধি: মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নেত্রকোণায় আরও ২৪ জন হিজড়া স্বপ্নের ঠিকানা পাচ্ছেন নতুন ঘর। এ ছাড়া ৬৫ জন প্রতিবন্ধী ও ৮৫৬ জন গৃহহীনদের নতুন ঘর দেওয়া হচ্ছে। রোববার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মাঝে ঘরগুলো হস্তান্তর করবেন। এর আগে জেলায় ১৫ জন হিজড়ার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর হস্থান্তর করা হয়।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণির দ্বিতীয় পযায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৯২৫ জনকে উপহার ঘর প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে কলমাকান্দায় ৫৫টি, দুর্গাপুরে ৪৫টি, সদরে ৬৪টি, বারহাট্টায় ২৫টি, কেন্দুয়ায় ৫৬টি, আটপাড়ায় ৫০টি, মদনে ১০৫টি, মোহনগঞ্জে ১০৫টি, খালিয়াজুরিতে ৪০০টি ও পূর্বধলায় ২০টি ঘর রয়েছে। এসব ঘরের মধ্যে ২৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ও ৬৫ জন প্রতিবন্ধী রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ঘর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ৪৩৫ বর্গফুটের প্রতিটি ঘরে রয়েছে দুটি শয়নকক্ষ, একটি করে বারান্দা, রান্নাঘর, বাথরুমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।
উপকার ভোগি দুর্গাপুরের স্বপ্না হিজড়া বলেন, ‘পথে প্রান্তরে চল্লিশ বছর কেটেছে স্বপ্ন হিজড়ার। মাত্র আট বছর বয়সে বুঝতে পারি এ সমাজ আমার নয়। এ ঘর আমার নয়। বুঝতে পারি মা বাব ভাই বোনদের সাথে এক আঙিনায় বড় হবার ভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে আসিনি। ছিলাম মা বাবার বড় সন্তান, মা-বাবা তাই আদর করে নাম দিয়েছিলো “খোকন”। কিন্তু সামাজিক বাস্তবতায় আজ পৌত্রিক নাম ফেলে স্বপ্না হিজড়া নামেই পরিচিত। হিজড়া হওয়ার কারণে ঘর ছেড়ে পথকেই আপন করে নিয়েছিলাম। আজ ঘর পাইছি, এযে কী আনন্দ বলে বুঝাতে পারবো না।’
জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে সবগুলো ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আগে প্রথম পযায়ে জেলায় ৯৬০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। উপকারভোগীদের নামে এসব ভূমির মালিকানা সত্ত্বেও দলিল বা কবুলিত, রেজিস্ট্রি ও নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।