আটপাড়ায় ১ মাস ধরে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে অগ্নিদগ্ধ শিশু তানজিনা

স্টাফ রির্পোটার: নেত্রকোণায় আটপাড়ায় রান্না করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে গেছে শিশু তানজিনা আক্তার (১১) এর দেহের প্রায় অর্ধেক অংশ। তার দরিদ্র বাবা উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাকরা ময়মনসিংহে রেফার্ড করলেও অর্থাভাবে নেয়া হয়নি। ফিরে যায় নিজ বাড়িতে। দীর্ঘ একমাস স্থানীয় কবিরাজি চিকিৎসাধীন থেকে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। ঘটনাটি ঘটেছে,গত ৩ রমজান দুপুরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র সাত মাস আগে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় শিশু তানজিনার মা। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে সংসারের কাজ মন দেয় নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলা আলিপুর গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানজিনা। সে আলীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। গত ৩ রমজান দুপুরে রান্না করতে গিয়ে কাপড়ে আগুন লেগে পুড়ে যায় শিশু তানজিনার দেহের প্রায় পঞ্চাশ ভাগ। ঘটনার পর বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা আশংকাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহে পাঠানোর পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে যেতে পারেনি তার পরিবার।
দগ্ধ শিশু তানজিনা আক্তারের বাবা মইজ উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটি পুড়ে যাওয়ার পর আমি বারহাট্টা হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তারা মমিনসিং লইয়া যাইতে কয়। আমার কাছে ভাড়ারটাকা আছিন না। আমি বাড়িত নিয়ে আইচি। কবিরাজি ওষুধ দিতাছি। ভালা অয়না। শরীর পচে গেছে। গন্ধ অইছে। আমি মেয়েটাকে বাচাইতে চাই।’
তানজিনার বড় ভাই হুমায়ূন মিয়া বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মানষের বাড়িত কামকইয়া খাই। বোনরে বাচাইতে হারতাছিনা। কেউ খবরও নেয় না। আপনেরা আমার বোনরে বাছাইন। আমরা গরিব মানুষ টাকা পয়সা নাই। মানষের বাড়িত কাজ করি। আমারা বোনকে বাঁচাইতে সবার সহযোগিতা চাই।’
তানজিনা বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সে বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রণা ছটফট করছে। শরীরের প্রায় অর্দেক অংশ পুড়ে গেছে। পুড়া ক্ষত থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। দেখতে প্রতিবেশীরা হাফছা আক্তার বলেন, ‘এক মাস ধইরা বিছানায় পড়ে আছে। কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। এখনি চিকিৎসা না করলে, শিশুটিকে বাঁচানো যাবে না। শিশুটিকে বাঁচাতে প্রশাসন সহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।’
শিশুটির প্রতিবেশি খুদেজা বেগম বলেন,‘সাত মাস আগে অসুস্থ থাইকেয়া তার মা মইয়া গেছে। মা মরার পরে ঘরের কাজ মেয়েটিই করে। রোজার তিন তারিখ রান্না করতে গিয়া শইল পুইয়া গেছে। কবিরাজ আইয়া ধূপ আর তেল দিয়া যায়। ভালা অয় না। ঘর গন্ধ অইয়া গেছে। সারা রাইত চিল্লায়। শুইতে পারে না। ঘুমাইতে পারে না।’
বিষয়টি নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমানকে জানালে তিনি শিশুটির চিকিৎসার আশ^াস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সংবাদটি আপনার মাধ্যমেই শুনলাম, আমি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসককে আজকেই খোঁজ নিতে বলেছি। তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতাও করা হবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।