হাওরের ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

খালিয়াজুরী প্রতিনিধি: নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরপারে এখন পুরোদমে ধান কাটা, মাড়াই দেওয়া আর ধান শুকানোর কাজ চলছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীরা প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান গোলায় তোলার কাজে। তাদের সহায়তা করছেন কৃষক পরিবারের অন্য লোকজন।
উপজেলার হাওরে হাওরে ধান কাটা, প্রতিটি খলা (ধান শুকানোর মাঠ) ও পাকা সড়কে ধান শুকানোর কাজ চলছে বিরামহীনভাবে। এমন দৃশ্য এখন হাওরাঞ্চলজুড়ে।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন,উপজেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭০ ভাগ ধান কাটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি,এক সপ্তাহের মধ্যে উপজেলার সবক’টি হাওরে ধান কাটা সম্পন্ন হবে। আগাম বন্যার শঙ্কা অনেকটাই কেটে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। উপজেলার ছোট-বড় ৮৯টি হাওরে ২০ হাজার একশো হেক্টর বোরো ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকরা জানান,এবার মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের অন্য এলাকা থেকে শ্রমিক না আসার আশঙ্কায় প্রথম দিকে ফসল কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা।পরে শ্রমিক আসায় কোনো বাধা না থাকায় ও হাওরে যথেষ্ট পরিমাণ ধান কাটার কম্বাইন্ড হারবেস্টার থাকায় ধান কাটতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। হাওরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নেতা-কর্মী, কৃষাণ-কৃষাণী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিার্থীরাও কোমর বেঁধে ধান কাটা উৎসবে মেতে উঠেছেন।ফসল ভালো হওয়ায় কৃষকের চোখমুখে আনন্দের হাসি।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি তপন বাঙালি বলেন, খালিয়াজুরীতে এখন পুরোদমে ধান কাটার ধুম পড়েছে। গোলায় ধান তুলতে কৃষক, কৃষাণী ও কৃষক পরিবারের ছোট -বড় সব বয়সী মানুষ ব্যস্ত সময় পার করছেন। বন্যার আশঙ্কা কেটে যাওয়াতে প্রকৃতির হাসিতে কৃষকরাও হাসছেন।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক হাওরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। খুব দ্রুত হাওরের পাকা ধান কাটা শেষ হবে। খালিয়াজুরীতে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।।

 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।