হাওরাঞ্চলের অনাবাদি জমিতে ফসলের আবাদ:বিশ কোটি টাকা লাভের সম্ভবনা

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে গেল পঞ্চাশ বছর ধরে অনাবাদি পতিত জমিতে করা হয়েছে নানার জাতের শাক সবজি সহ ফসলের আবাদ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বাম্পার। হাওরের ভূমিহীন ও বেকার যুবকদের কাজে লাগাতে জেলা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগে। এবছর প্রায় আড়াই হাজার একর পতিত জমি চাষের আওতায় এলেও আগামীতে এর প্রসার বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানায়, যুগের পর যুগ ধরে পতিত ছিল হাওরের হাজার হাজার হেক্টর সরকারী জমি। বর্ষায় থই থই পানি আর শুকনায় গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ যেনো হাওরের নিয়মিত ব্যাপার। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটেছে এবছর। এসব পতিত জমিতে শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ। কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক বেকার যুবকের। পতিত জমিতে স্বপ্নের ফসলের রূপ দেখে খুশি বেকার তরুণরাও।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উপজেলার পতিত জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে শীতকালীন সবজির সবুজের সমারোহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে “কোথাও যেন এক ইঞ্চি জমি অনাবাদি না থাকে” জেলা প্রশাসনের গৃহীত এই উদ্যোগে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে হাওরাঞ্চলের অনেক বেকার যুবকদের।
জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের আড়াই হাজার একর অনাবাদি পতিত জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া, আলু, বাদাম, পিঁয়াজ, রসুন, সূর্যমুখি, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় এই উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে কৃষকের মধ্যে দেয়া হয়েছে প্রণোদনা, সেচ যন্ত্র, সার ও বীজ। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে সময় মতো ক্ষেতে দেয়া হয়েছে পানি। আগাছা পরিষ্কার, নিড়ানি দেয়াসহ পরিচর্যায় জমিতে সবুজ ফসলের হাসিতে এখন কৃষকে মুখে ফুটেছে হাসি।
খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে মিষ্টি কুমড়ার। উৎপাদিত এই মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করে প্রায় ১০ কোটি টাকা কৃষকের আয় হবে। এছাড়া আড়াই হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি আবাদে প্রায় ২০ কোটি টাকা কৃষকের আয় হবে।
স্থানীয় বেকার যুবক সোহাগ আজিম বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগীতায় খালিয়াজুরী এলাকার বিপুল পরিমানে অনাবাদি পতিত জমি চাষ করে আমরা লাভবান। প্রায় ৫ হাজার কৃষক সঠিক সময়ে সার-বীজ, সেচ সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ায় পতিত জমিগুলোতে সোনা ফলানো সম্ভব হয়েছে। আগামীতে এই সহযোগীতা অব্যাহত থাকলে উপজেলার অনাবাদি জমির এক ইঞ্চিও পতিত থাকবে না।
খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাবেক মহিলা মেম্বার শামছুন্নাহার বলেন, দীর্ঘসময় পতিত জমিগুলোতে এবছর ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে। প্রশাসন উদ্যোগী না হলে এই জমিগুলো এখনো হয়ত পতিতই থেকে যেতো। গরু ঘাস খেতো। তবে জমিতে এখনো ফসল রয়ে গেছে অপরদিকে হাওরে পানি চলে আসার সময় হয়ে গেছে। তাছাড়া চাষের জন্যে একটা ট্রাক্টর ও সেচ ব্যবস্থার জন্যে আরও কয়েকটা সেচযন্ত্র জরুরি।
খালিয়াজুরীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, হাওরের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমরা সপ্তাহে তিন চার দিন মাঠে গিয়েছি। সময়মতো সার, বীজ, কৃষি উপকরণসহ নিয়মিত কৃষিবিভাগের তদারকি করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করি আগামীতে এর চাষ আরো বাড়বে।
খালিয়াজুরীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুয়ায়ী উপজেলার আড়াই হাজার একর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। আর এই উদ্যোগ আশাকরি শুধু এলাকাবাসী নয় সমগ্র দেশের কৃষকদের মাঝে অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং দেশে করোনার সংক্রমনে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বেকারত্ব দুর করতে যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
এব্যাপারে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীতে আরও বেশি পরিমাণে জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হবে। সেই সাথে সরকারিভাবে সার, বীজসহ সকল প্রকার প্রণোদনা ও সরকারি সুবিধা প্রদান করে আরও দ্বিগুণ হারে রবি শশ্য উৎপাদন করে তা ন্যায্য মূল্যে বাজারজাত করার ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এতে করে সরকারের নির্দেশনা রক্ষার পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্যের চাহিদা পূরণ হবে।অন্যদিকে বেকারত্ব দূরীকরণ হয়ে হাওরাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।