খালিয়াজুরীবাসীর দুঃখ: ধনু নদীতে সেতু হলে বদলে যাবে চিত্র!

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদীর রসূলপুর ঘাটে একটি পাকাসেতু বদলে দিতে পারে উপজেলার অর্থনৈতিক চিত্র। হাওরদ্বীপ খ্যাত জেলা সদরের সঙ্গে খালিয়াজুরীর সংযোগ ঘটাতে পারে একটিমাত্র সেতু। অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতেও এনে দিতে পারে উন্নয়নের ছোঁয়া। কিন্তু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও সেতু নির্মাণে এগিয়ে আসছেনা কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীদের চলতে হচ্ছে খেয়া নৌকা দিয়ে।
হাওরাঞ্চলে একটি প্রবাদ আছে, ‘বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও’। এই সময় ছাড়া হাওরাঞ্চলে চলাচল খুবই দুষ্কর। কৃষকের কৃষিপণ্য, হাওরের উৎপাদিত মাছ যাতাযতের সমস্যা পোহাতে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুবন্ত সড়ক নির্মিত হলেও একটি মাত্র সেতুর কারণে মানুষের দুর্ভোগ রয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নেত্রকোণা সদর থেকে খালিয়াজুরী সদরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। হাওরদ্বীপ খ্যাত এ উপজেলা বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। আর বাকি ছয় মাস চলতে হয় সড়কপথে। নেত্রকোণা থেকে মদন উপজেলা সদর পারি দিয়ে যেতে হয় সেখানে। মদনের উচিতপুর থেকে খালিয়াজুরী সদর পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সাবমার্জিবল (ডুবন্ত) সড়ক আছে। শুষ্ক মৌসুমে এ সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহনে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু খালিয়াজুরীর তিন কিলোমিটার আগে রসুলপুর এলাকায় ধনু নদীতে কোন সেতু না থাকায় তা পারি দিতে হয় খেয়ানৌকা দিয়ে। এ কারণে খালিয়াজুরী সদরে কোন যানবাহন পৌঁছে না। অর্থাৎ একটি সেতুর অভাবে জেলা সদরের সঙ্গে প্রায় বি্িছন্ন হয়ে আছে উপজেলাটি। আর বড় নদীতে খেয়া পারি দিতে গিয়ে যাত্রীদের ব্যয় করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।
এ দিকে ইজারাদারের ব্যবস্থাপনায় চালু হওয়া খেয়া নৌকাটিও বেশ ছোট। সবসময় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হয়। ফলে নিতে হয় জীবনের ঝুঁকি। খেয়া পাড়ি দিয়ে নদীর পাড়ে উঠতে গিয়ে শিকার হন নানান বিড়ম্বনার। মোটরসাইকেল কিংবা যানবাহন নিয়ে পড়তে হয় বিপদে।
খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের বর্ষা সরকার বলেন, ‘তিন-ছার বছর আগে যখন সাবমার্জিবল সড়ক নির্মাণ করা হয়। তখন এখানে একটি ফেরির ব্যবস্থা করা হবে বলে শুনেছিলাম। কিন্তু তা আর হয়নি। সেতু হলে কৃষি পণ্য, মৎস্য সম্পদ ঢাকা সহ সারা দেশে সরবরাহ করা যাবে। জেলেসহ কৃষকরা তাদের সম্পদের ন্যায্য মুল্য পাবে।’
খালিয়াজুরী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘খালিয়াজুরী-মদন সড়কের রসুলপুরে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলা সদরের সঙ্গে খালিয়াজুরীর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। খালিয়াজুরী থেকে জেলা সদর পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করা যাবে। কৃষিনির্ভর এ এলাকার কৃষকদের পণ্য পরিবহন সহজ হবে। বর্তমান অবস্থায় সন্ধ্যার পর আমাদের যাতাযাত ব্যবস্থা এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে।’
খালিয়াজুরী সদরের পুরানহাটি গ্রামের স্বাগত সরকার শুভ বলেন, ‘উপজেলা সদরে কোন যানবাহন না আসায় আমরা অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সব দিক দিয়ে পিছিয়ে আছি। ইউনিয়ন গুলো থেকে কেউ চাইলেই রাতের বেলা উপজেলা সদরে আসতে পারেন না। মুমুর্ষ রোগীদের পরিবহন করা সম্ভব হয় না। দূরের শিক্ষার্থীরা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না। কৃষিপণ্য ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন মালামাল বহন করতে হয় শ্রমিক দিয়ে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেত্রকোনা সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ সমস্যাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে একটি পাকাসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু কাজও করছি আমরা।’
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, ‘খালিয়াজুরীর ধনু নদীর রসূলপুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করে খুব দ্রুত সময়ে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।