নেত্রকোণায় সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ,আট বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগ

বিশেষ  প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় বাবার হাতে আট বছরের এক ছেলে খুন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে সদর উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছেলের নাম আরাফাত রহমান। বাবার নাম এরশাদ মিয়া (৩৪)। তিনি নেত্রকোনা সদরের কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি। কান্দুলিয়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এরশাদ মিয়ার সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে কান্দুলিয়া গ্রামের মতি মিয়ার মেয়ে আফরোজা বেগমের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ছেলে—ওই শিশুই আরাফাত (৮)। কয়েক বছর ধরে এরশাদ ও আফরোজার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। চার মাস আগে আফরোজা তাঁর স্বামী এরশাদ মিয়াকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে ছেলেকে নিয়ে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ এরশাদ শ্বশুরবাড়ি হাজির হন। এ সময় তিনি সঙ্গে তাঁর ছেলে জন্য একটি নতুন শাট-প্যান্ট ও কিছু কমলা নিয়ে আসেন। পরে তিনি ছেলেসহ আফরোজাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চান। কিন্তু আফরোজা এতে রাজি হননি। এক পযায়ে আফরোজার কাছ থেকে আরাফাতকে টেনে নিয়ে ঘরে যান এবং হাফ বিল্ডিং ঘরের দরজাটি বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ ঘর থেকে বের না হওয়ায় আফরোজা চিৎকার শুরু করেন এবং পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরের দরজা খুলে আরাফাতের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম হত্যার ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শিশু আরাফাতকে তার বাবা এরশাদ মিয়া গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে লাশের পাশেই তিনি বসে ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির লাশ উদ্ধার ও এরশাদ মিয়াকে আটক করে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এরশাদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে এরশাদ ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি নিজেও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।