পূর্বধলার একই পরিবারের ৬ জনের প্রাণহানি: চলছে শোকের মাতম

বিশেষ প্রতিনিধি: নতুন শিশু জন্ম উপলক্ষ্যে সবাই দেখতে যান ময়মনসিংহে। পরিবারের সকলে মিলে নতুন শিশুকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সিএনজিতে করে। কথা ছিল বাড়ি ফিরে ঘটা করে দেয়া হবে শিশুর আকিকা। কিন্তু সে আনন্ত মুহুর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
নেত্রকোণার শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নয়ন দাশ জানান, নেত্রকোণা থেকে একটি শাহজালাল পরিবহণের যাত্রীবাহী বাস ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে একটি সিএনজিকে চাপা দেয়। ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এলাকার গাছতলায় রবিবার বেলা ১২ টা ৪৫ মিনিটে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই সিএনজির যাত্রী। নিহতদের মধ্যে ৬ জন একই পরিবারের এবং অপর একজন সিএনজি অটোরিক্সার চালক। নিহতদের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের চেচুয়ালেন্দি গ্রামে।
নিহতরা হলেন মাওলানা ফারুক হোসেন (২৫), তার স্ত্রী মাসুমা বেগম (২০), তার ৫ দিন বয়সী কন্যা শিশু, ভাই নিজামউদ্দীন, ভাবী জোসনা বেগম (২৫) ও বোন জুলেখা খাতুন (৩৫)। সিএনজি চালকের পরিচয় এখনো সনাক্ত হয়নি। মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এঘটনায় শাহজালাল পরিবহন নামে একটি বাস আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার অধীনে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে।
নিহত মাওলানা ফারুকের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, মাওলানা ফারুক-মাসুমা দম্পতির সন্তান প্রসবের জন্য তারা গত সপ্তাহে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ৫ দিন পূর্বে তাদের সন্তানের জন্ম হয়। এরপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, নিহতদের পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন থেকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আমি যোগাযোগ করেছি তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।