কলমাকান্দায় এতিম শিশু কাওসারের দায়িত্ব নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বিশেষ প্রতিনিধি: শিশু কাওসার আহমেদের (৭) বাবা মো. হাবিবুর রহমান বছর চারেক আগে মারা যান। এর দুবছর পর তার মা হাফসা আক্তার দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগে তারও মৃত্যু হয়। দরিদ্র পরিবারের ওই শিশুটি এখন দাদির আশ্রয়ে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। আর ছোট বোন তামান্না আক্তার (৩) নানির আশ্রয়ে বড় হচ্ছে। এতিম ওই শিশুটির লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নিলেন স্থানীয় লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।
সোমবার দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ওই শিশুটির খোঁজ নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। কাওসার আহমদের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া মধ্যপাড়া গ্রামে। সে সাওতুলহেরা নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় লেখা-পড়া করে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুইয়া সোমবার দুপুরে লেঙ্গুড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৩৫ জন এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে পোষাক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। ইউনিয়নের ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিজ উদ্যোগে এ সব উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় উপহার সামগ্রী নিতে আসা কাওসার আহমেদের প্রতি তার নজর পড়ে। চেয়ারম্যান কাওসারের খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, এতিম ওই শিশুটি একবারেই হত দ্ররিদ্র পরিবারের। এ সময় তিনি শিশুটির অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করার দায়িত্ব নেন।
এ ব্যাপারে সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ওই শিশুটির মা-বাবা অনেক আগে মারা গেছেন। পরিবারটি গরিব হওয়ায় তার লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ আমি ব্যক্তি উদ্যোগে বহন করবো। শিশুটি যাতে লেখাপড়া করে ভালো মানুষ হতে পারে সে চেষ্টা করা হবে।’
শিশু কাওসার যে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে সেই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও লেঙ্গুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘শিশুটির দায়িত্ব নিয়ে চেয়ারম্যান একটি মহৎ কাজ করেছেন। শিশুটির কেউ ছিলনা। এতদিন আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে খাবারসহ লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছি। উনার (চেয়ারম্যানের) এই উদ্যোগে আমরা চিন্তামুক্ত হলাম। আশা রাখি শিশুটি এখন আলোর মুখ দেখতে পারবে। এ ভাবে বিত্তবানদেরকে এতিম-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’


শিশু কাওসার আহমেদ অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার আব্বা-আম্মা কেউ এই দুনিয়ায় বেঁচে নেই। চেয়ারম্যান চাচা আমার দায়িত্ব নেওয়ায় আমার খুবই আনন্দ লাগছে। আমি এখন নিশ্চিন্তে লেখাপড়া করে অনেক বড় মানুষ হতে পারবো।’
ঘোড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী ভূঁইয়া বলেন, সাইদুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের জনসেবার কাজ করে আসছেন। তিনি কিছু দিন আগে পশ্চিম জিগাতলা গ্রামের আম্বিয়া বেগম (৭০) নামে এক বিধবাকে নিজ অর্থায়নে একটি টিনের ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। গত বছর ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে গৌরীপুর থেকে তারানগর পযন্ত তিন কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করেছেন।’
সোমবার পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, লেঙ্গুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা হাসেন আলী ভূঁইয়া, শিবপুর মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন, পশ্চিম জিগাতলা মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।