কিছু লোক তাদের স্বার্থের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে-কৃষিমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা শিশুকাল থেকে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয়-সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন দেখে আসছি। কখনও কোন রকম বিভেদ দেখিনি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে কিছু লোক তাদের স্বার্থের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে নানা অশুভ কাজ করছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত করছে। এরা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী এবং পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। শনিবার দুপুর দুইটায় তিনি নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাংলা বাজার সংলগ্ন মহাশশ্মান কালী মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
এ সময় ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, সকল ধর্মই শান্তির জন্য। ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য। আর মন্দির হল সম্প্রীতির জন্য, সুন্দর জীবনের জন্য। তিনি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় আদর্শকে লালন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু এমপি বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে নেত্রকোণা জেলা। এখানে আমরা হিন্দু-মুসলিম সকলে ভাই ভাই। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদ ও পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ মেলবন্ধন যাতে ভবিষ্যতেও অটুট থাকেÑ সেজন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আশরাফ আলী খান খসরু এমপিও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যোগ দেন এ অনুষ্ঠানে।
শনিবার দুপুর দুইটায় বাংলা শশ্মানঘাটে নবনির্মিত কালী মন্দিরে মন্দির কমিটির সভাপতি কেশব সেনের সভাপতিত্বে এবং অজিত কুমার দাসের সঞ্চালনায় এ সুধী সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার রাজন ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন: সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হাবিবা রহমান খান শেফালী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অসিত সরকার সজল, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি কেশব রঞ্জন সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মারুফ হাসান খান অভ্র, ব্যবসায়ী বাবলু সাহা প্রমুখ। হাবিবা রহমান খান শেফালী এমপি কৃষিমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে ফিতা কেটে মন্দিরের দ্বার উদ্ঘাটন করেন।
জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী বাংলা গ্রামের রেললাইনের উত্তর পাশে শত বছরের বেশি আগে এ শশ্মানঘাট প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে এলাকার একটি দুষ্টুচক্রের যোগসাজশে কয়েক ভূমিদস্যূ শশ্মানের জায়গাটি দখল করে নেয়। এ নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে কিছুদিন আগে তারা রাস্তা অবরোধসহ স্থানীয়ভাবে মিছিল-আন্দোলন করেন। পরবর্তীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেল মন্ত্রণালয় গত বছর ওই জায়গটি শশ্মানের জন্য বরাদ্দ করে। সম্প্রতি শশ্মানঘাট পরিচালনা কমিটি সেখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।