নেত্রকোণায় তলিয়ে গেছে ২০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নেত্রকোণা-সিধলী সড়ক

বিশেষ প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নেত্রকোণায় তলিয়ে গেছে রোপা আমনের ১৯ হাজার ৯ শো ৫৮ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়াও তলিয়ে গেছে নেত্রকোণা-সিধলী-কলমাকান্দা সড়ক। এরিমধ্যে পানি উঠতে শুরু করেছে দশ উপজেলার বসতবাড়িতে। কয়েকদফা বন্যায় রোপা আমনের বীজতলা ক্ষতির পর উঠতি ফসল ডুবে যাওয়ায় সামনের দিনগুলি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, দশ উপজেলার অন্তত ৫০ টি ইউনিয়নে রোপা আমন তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি অফিস বলছে, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও জেলা কৃষি অফিস সূত্র বলছে, নেত্রকোণায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৯ শ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে নেত্রকোণা সদরের ৩৫০০ হেক্টর,পূর্বধলায় ১১০০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৩৪২০ হেক্টর,কলমাকান্দা ২২০০ হেক্টর, মোহনগঞ্জে ২০০০ হেক্টর, বারহাট্টা ৬০০০ হেক্টর, কেন্দুয়ায় ৪৪ হেক্টর, আটপাড়া ৬১৪ হেক্টর, মদনে ১০১০ হেক্টর ও খালিয়াজুরী ৭০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। দশ দিন ধরে টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্টি হয়েছে বন্যার। জেলার ধনু নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং কলমাকান্দার উব্দাখালী নদী পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদনদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশংকা করছে জেলা কৃষি অফিস।
অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার দশ উপজেলার মধ্যে বারহাট্টা, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, নেত্রকোণা সদর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় রোপা আমনের উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। এবছর কয়েকদফা বন্যায় রোপা আমনের বীজতলা ক্ষতির পর উঠতি ফসল ডুবে যাওয়ায় সামনের দিনগুলি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার কে’গাতির ইউপি চেয়ারম্যান আলী আসগার খান শারীফ বলেন, “কে’গাতি, মৌগাতি, ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শতকরা ৯৫ ভাগ রোপা আমনের জমি আশি^নের বন্যায় তলিয়ে গেছে। আগে দুই দফা বন্যায় বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এখন ঋণ করে আট হাজার টাকা দরা(৫ কেজি) বীজ কিনে চারা রোপন করে ফসল উঠার এক মাস আগে আবার আশি^নের বন্যায় সব তলিয়ে গেছে। প্রায় তিন শতাধিক পুকুর ভেসে গেছে। কৃষকরা আগামী দিন গুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহজ শর্তে ঋণ না দিলে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।”
কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের কৃষক রবিকুল ইসলাম জানান, দুইবার বন্যার পানিতে বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এখন দরা (কেজি) ধান বীজের চারা আট হাজার টাকা করে কিনে আমন আবাদ করেছি। কিন্তু আশি^নের ঢলে আবার তলিয়ে গেছে। এখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে কিভাবে সারা বছর চলবো ভেবে পাইনা। আমার সব জমি তলিয়ে গেছে। এখন ধানের চারা পচে যাচ্ছে।
অসময়ে বন্যায় রোপা আমনের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমর ক্ষতির কথা স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, এবছর নেত্রকোণায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৯ শ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। এরমধে রোপা আমনের ১৯ হাজার ৯ শো ৫৮ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। আমি রোববার জেলার দুর্গাপুর,পূর্বধলা ও নেত্রকোণা সদরের কয়েকটি ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছি। পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য নিদের্শ দেয়া হয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।