মদনে মহিলা মার্কেট প্রভাবশালীদের দখলে

মদন প্রতিনিধি: ক্ষমতা যার মার্কেট তার এভাবেই ব্যবহার হচ্ছে মহিলা মার্কেট (ওম্যান্স কর্ণার)। নামেই মহিলা মার্কেট। যে যার মতো দখল করে দোকান পরিচালনা করছে আর কেহ দখল নিয়ে অন্যত্রে ভাড়া দিয়েছে। ব্যবহার হচ্ছে গোডাউন হিসেবে। এসব বিষয় নিয়ে মাথা ব্যাথ্যা নেই উপজেলা প্রশাসনের। প্রশাসনের কোনো দপ্তর জানে না এ মার্কেট কার। সরকার বছরের পর বছর হারাচ্ছে রাজস্ব। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মহিলা মার্কেটের দোকান ঘর দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার করে আসছেন কতিপয় সুবিধাবাদী প্রভাবশালী লোকজন।

জানা গেছে, মদন উপজেলায় তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী বাজারে ও ফতেপুর ইউনিয়নের হাটশিরা বাজারে মহিলাদের জন্য ২ টি মহিলা মার্কেট ২০০০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়। এ মার্কেটের দোকানদার হবেন শুধু মাত্র মহিলারা। তারা সরকারকে প্রতি মাসে একশ টাকা ভাড়া দিয়ে এখানে ব্যবসা করবেন এমনটাই ছিল নিয়ম। সূত্র আরো জানায়, মহিলা মার্কেটের দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে উপজেলা প্রসাশনের। কিন্তু কেউই জানেন না এসব দোকান ঘর কার নামে বরাদ্দ রয়েছে। এমনকি প্রতি মাসের ভাড়ার টাকা দোকানদাররা কোথায় দিচ্ছেন তাও জানেন না তারা।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তিয়শ্রী বাজারে যে মহিলা মার্কেট এর প্রথম দোকানেই রয়েছে রায়হান টেলিকম। প্রোপাইটর রায়হান এর সাথে কথা বললে তিনি কালের কন্ঠকে বলেন, তিয়শ্রী গ্রামের সৈয়দ জিয়াউল হক মাস্টারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ৩ বছর ধরেই দোকান পরিচালনা করে আসছি। কত টাকা ভাড়া দেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান। পাশে জুতার দোকানের সাদ্দাম জানায়, আমি প্রতিমাসে ৬০০ টাকা দোকান ভাড়া দিয়ে আসছি। কার কাছে দেয়া হচ্ছে টাকা জানতে চাইলে নাম বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। এরই পাশে টেইলার্সের দোকানের রুজেল খান বলেন, দোকান ভাড়া বাবদ আমি কোনো টাকা দিই না। কেন দেয়া হয় না দোকান ভাড়া এমন প্রশ্ন করলে ইউপি ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। এরই পাশের দোকানদার আবু তাহের জানান, বাস্তা দাখিল মাদ্রার শিক্ষক নূরে আলমের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়েছি। এর বেশী কিছু জানি না।তিয়শ্রী বাজারের নামে মাত্র মহিলা মার্কেটের ১২ টি দোকানের এক অবস্থা রয়েছে।

ফতেপুরে হাটশিরা বাজারের গেলে দেখা যায় মহিলা মার্কেটের ১০ টি দোকানেই ব্যবহার করছে ব্যবসায়ীরা। কেহ গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করছে কেহ আবার কাপড়ের দোকান দিয়েছে। একটি দোকানের ব্যবসায়ী মাহবুব আলম বলেন, আমি ৩ মাস যাবৎ এ দোকান ঘর ব্যবহার করছি । ভাড়া বাবদ কিছু টাকা দিতেছি। কাকে দেয়া হচ্ছে এ মহিলা মার্কেটের দোকান ভাড়ার টাকা তা জানতে চাইলে এড়িয়ে যায়। এরই পাশে আরেক দোকানের ব্যবসায়ী ছোটন মিয়া বলেন, আমি ব্যবসা করার জন্য ফতেপুর গ্রামের আতিকুলের কাছ থেকে দোকানের চাবি নিয়েছি। দোকান ঘর ভাড়া বাবদ কিছু টাকা দেয়া হয় কিন্তু কত দেয়া তা বলতে অনিচ্ছুক।

২ টি মার্কেটের ২২ টি দোকান ব্যবহার করা হচ্ছে তা কাদের নামে বরাদ্দ আছে এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসন কোনো ভূমিকা না নেয়ায় নীতি নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করেই ফায়দা লুটছে এক শ্রেনীর অতি মুনাফা লোভীরা।

তিয়শ্রী বাজারের মাসুম বলেন, সরকারি মহিলা মার্কেটের প্রত্যেকটা দোকানেই জামানত নিয়ে ভাড়া দেয়া হয়েছ। প্রশাসন খোজ খবর না রাখায় যে যার মতো দখল করে ভাড়া দিয়েছে।

তিয়শ্রী ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খোররাম জাহান মুরাদ বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

তিয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিন আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ মহিলা মার্কেট দখল হয়ে আছে। উদ্ধারের চেষ্টা করেও পারছি না।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, হাটশিরা বাজারে মহিলা মার্কেটের ১০ টি দোকান ঘর রয়েছে। এগুলোতে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছে। কিন্তু কার নামে বরাদ্দ আর কে ব্যবহার করছে তা আমার জানা নেই।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা জানায়, মহিলা মার্কেটের কোনো ফাইল আমার অফিসে নেই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে খোজ নিতে বলেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ওয়ালীউল হাসান কালের কন্ঠকে বলেন, এ বিষয়টা আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হয়েছি। খোজ খবর নিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।