নেত্রকোণায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দুর্নীতির তদন্তে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার : নেত্রকোণা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিমের দুর্নীতির আভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রবিবার বেলা ৩টা থেকে দুদকের একটি তদন্ত দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ভ্যাট কাটার নামে ঘুষ নিয়েছেন, ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষক বদলি, টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে সংযুক্তিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একই বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৫ দফা অভিযোগ দায়ের করেন ২৮ জন শিক্ষক। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাবাদের পর অভিযোগকারী ২৮ শিক্ষককেও আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে কথা বলেছে দুদকের তদন্ত দল।
দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা এবং নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওবায়দুল্লাহ শাহীন এতথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান, গত বছরের ১ এপ্রিল নেত্রকোণা  সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকসহ মোট ২৮ জন শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। পরে দুদক অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টির প্রাথমিক তদন্তভার নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেন। দুদকের নির্দেশে গত রবিবার থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষকদের মধ্যে জাহানারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘বিজয় দিবসের ফুল কেনার জন্য প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দুই হাজার টাকা থেকে সাতশ’ টাকা করে রেখে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করেই অনেক শিক্ষককে বদলি করেছেন। এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু কোনও শিক্ষক ভয়ে এগুলো বলেননি। আমরা গত রবিবার সব প্রমাণাদি জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে দিয়ে এসেছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ করিম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। আমি সব কাগজপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দিয়ে এসেছি।’
তদন্ত কর্মকর্তা ও নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওবায়দুল্লাহ শাহীন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তভার পাওয়ার পর, আমি অভিযোগকারী শিক্ষকদের ডেকে তাদের কথা শুনেছি এবং অভিযোগের প্রমাণাদি কাগজপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষকদেরও জবানবন্দি লিখিত আকারে জমা নিয়েছি। অধিক গুরত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবো। পরে দুদক আমার তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে পুনরায় তদন্ত শুরু করবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।