নেত্রকোণায় পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর)মেশিন স্থাপনের দাবি 

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাস সনাক্ত করতে নেত্রকোণায় দ্রুত একটি পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর ) মেশিন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ক্যাম্পেইন চলছে। জেলার সহস্রাধিক লোক প্লে-কার্ডের মাধ্যমে এই দাবি জানিয়ে তাদের নিজস্ব আইডিতে পোস্ট দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সির্ভিল সার্জনের কাযালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণায় করোনা লক্ষণ দেখা দেওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবের পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাবে সহজে এই পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ওই পিসিআর মেশিনে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, জামালপুর ও শেরপুরের পাশাপাশি সুনামগঞ্জের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিদিন দুইবারে গড়ে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা যায় ওই মেশিনটিতে। এতে করে প্রচুর নমুনা জমা পড়ে আছে ল্যাবটিতে। গত ২ এপিল থেকে গতকাল বুধবার পযন্ত জেলায় ১ হাজার ১৪৪ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল রাত পর্যন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে মাত্র ৪৯১টির। প্রাপ্ত প্রতিবেদনে আক্রান্ত ৩৫ জন। বাকি ৬৫৩টি নমুনা এখনও ল্যাবে জমা রয়েছে। এ অবস্থায় করোনা রোগী শনাক্তকরণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা যেমন ব্যহত হচ্ছে তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আইসোলেশন প্রক্রিয়াও। রোগী শনাক্ত করতে নেত্রকোণায় দ্রুত একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ঝড় তোলা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঁচটায় শহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জেলা উদীচী সহসাধারণ সম্পাদক ছড়াকার সঞ্জয় সরকার প্রথমে তার নিজস্ব ফেইজবুক আইডিতে এ নিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করেন। তিনি একটি কাগজে ‘করোনা পরীক্ষায় নেত্রকোণায় দ্রুত একটি পিসিআর মেশিন চাই’ লিখে তা দুহাতে নিয়ে পোস্ট করেন। তা দেখে মুহুর্তের মধ্যে জেলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক লোক একই দাবি জানিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করছেন।
এ ব্যাপারে সঞ্জয় সরকার জানান, ‘এখন লকডাইন থাকায় আমরা মানবন্ধন করতে পারছিনা। তাই সামজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফেইজবুকে ক্যাম্পেইন চালাচ্ছি। আশা করছি কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমাদের এই দাবি মেনে নিবেন।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগের সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী ও নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাক সাইফুল্লাহ এমরান বলেন, ‘জেলায় দ্রুত একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন এখন আমাদের প্রাণের দাবি। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নেত্রকোণায় কোন করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। সাড়ের ছয়শত এর মতো নমুনা ময়মনসিংহ ল্যাবে জমা পড়ে আছে। নমুনা পরীক্ষা না হওয়ায় রোগীর প্রকৃত সংখ্যাও জানা যাচ্ছে না।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটির সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ‘পরীক্ষায় বিড়ম্বনার কারণে জেলায় করোনা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এতে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমরা জেলায় দ্রুত একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন চাই।’
নেত্রকোণা সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই সম্ভাব্য রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহের ল্যাবে পাঠাচ্ছি। কিন্তু সক্ষমতা অভাবে ল্যাব কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না। এ কারণে রোগী সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যহত হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।