দুর্গাপুরে একটি গ্রাম সেচ্ছায় লকডাউন 

স্টাফ রিপোর্টার: ‘করোনায় আক্রান্ত হব না, কাউকে আক্রান্ত করব না’, ‘এই গ্রামে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ, গ্রামবাসীরাও বাইরে যাবেন না’ একটি টিনে রং দিয়ে হাতের এ রকম লেখা এবং এ ধরনের প্রত্যয় নিয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের কুল্লাগড়া গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় লকডাউন করেছেন।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং মানুষের অহেতুক বিচরণ ঠেকাতে ও সমাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বুধবার দুপুর থেকে ওই গ্রামের বাসিন্দারা মিলে গ্রামের প্রবেশ পথে বাঁশ দিয়ে বেরিগেট করে রাখা হয়।
এতে করে বিনা প্রয়োজনে বিনা প্রয়োজনে যেমন লোকজন ঘর বাইরে বের হচ্ছেন না, তেমনি প্রবেশ করতেও দিচ্ছেন না কাউকে। গ্রামবাসীরা মনে করেন, এভাবেই করোনা মোকাবিলায় সব এলাকা লকডাউন করা উচিত।
গ্রামের যুবক সুজন সাহা জানান, গ্রামটিতে প্রায় সাত শতাধিক পরিবারের বসবাস। বহিরাগতদের মাধ্যমে বা নিজেদের মধ্যে কারো মাধ্যমে যেন করোনা না ছড়ায়, এজন্য নিজেরাই গ্রামটিকে লকডাউন করে দিয়েছেন।’
গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তারা বুধবার বেলা ১২টা থেকে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়েছেন নিজেদের উদ্যোগে। কারণ, গ্রামের সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বেশ কিছু রিকশা, ইজিবাইক, মোটর সাইকেলসহ কিছু যানবাহন ও মানুষ চলাচল করে। তাদের মাধ্যমে যাতে করোনা না ছড়ায়, তাই এ পদক্ষেপ। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে কেউ বাইরে বা হাট-বাজারে গেলে ব্যারিগেটের পাশে সাবান,পানি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা আছে। তাতে হাত ধুয়ে প্রবেশ ও বের হতে হবে। আর মাস্ক অবশ্যই পড়তে হবে।’
গ্রামের বৃদ্ধ নবাব আলী জানান, এ সময়টা নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের স্বার্থে আমাদের ঘরে থাকা উচিত। আমরা অনেকেই সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মানছি না। অযথা আড্ডা বন্ধ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতেই আমরা প্রায় সবাই সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রাম ‘লকডাউন’ করেছি। এতে কারো দুর্ভোগ যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা হচ্ছে ।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।