নেত্রকোণার কর্মহীন ৫ হাজার বিড়ি শ্রমিকের ত্রাণের দাবী

বিশেষ প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এতে করে সাধারণ শ্রমিক, যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাবার কারণে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে। যাদের মধ্যে নেত্রকোণা অঞ্চলের বিড়ি শ্রমিকরা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। হাতে তৈরী বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার কারনে দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এ অঞ্চলের ৫ হাজারেরও অধিক নিম্ন আয়ের বিড়ি শ্রমিকদের।

বিড়ি ফ্যাক্টরী ১৭ দিন বন্ধের কবলে পড়ায় এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো পর্যন্ত সরকারী বা মালিক পক্ষ থেকে কোন সাহায্য সহযোগীতা পায়নি বলে জানান তারা।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সামাজিক সুরক্ষা জনিত কারণে প্রথম দফায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণার মাধ্য দিয়ে গেল এক সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে। আকিজ, বিনোদ ও বাচ্ছু বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে নতুন করে আরো ৭ দিন সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি হওয়ায় টানা ১৭ দিন এই বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধের কবলে পড়েছে।

নেত্রকোণা অঞ্চলের মধ্যে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরীরর ৩ প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার বিড়ি শ্রমিক বর্তমানে বেকার হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। হাতে তৈরী বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকার সুযোগে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকা ও জেটিআই (জাপান ট্যোবাকা) চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেটের রমরমা ব্যবসা।

নেত্রকোণা বিড়ি ফেডারেশনের সভাপতি কাশেম আলী ও সম্পাদক আব্দল গফুর মেম্বর বলেন, ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকলে শ্রমিকরা করোনা ভাইরাসে মরবো না বরং না খেয়েই মরবে বিড়ি শ্রমিকরা। ফ্যাক্টরীর উৎপাদন বন্ধ থাকাকালিন সময়ের জন্য আমাদেরকে মালিক পক্ষ বা সরকারী ভাবে এখনও কোন সাহায্যের ব্যবস্থা করেনি। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে দিন কাটাচ্ছি একমাত্র আল্লাহ জানেন। কোন রকম সাহায্য না দেওয়া পর্যন্ত নিয়মানুসারে ফ্যাক্টরীর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে হবে বলে জোর দাবি জানায় তারা।
আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী নেত্রকোণার সহ ব্যবস্থাপক এস এম নাজমুল ইসলাম বলেন, ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা দিন আনে দিন খায়। দীর্ঘদিন বন্ধের কবলে পড়ায় কোন শ্রমিককে সরকারি বা মালিক পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বা কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা করেনি। অনুমতি পেলে শ্রমিকদের বিনামূল্যে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করবো।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।