নেত্রকোণায় বিদেশ ফেরত ৮১০ হোম কোয়ারেন্টাইনে ৫৯ : ১ নারীকে মমেক-এ প্রেরণ

স্টাফ রির্পোটার: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে সন্দেহে নেত্রকোণায় বিদেশ ফেরত ৫৯ জনকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক নারীকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সৌদিআরব থেকে গত মঙ্গলবার নিজ বাড়ি মোহনগঞ্জে এসেছেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার সর্দি-জ্বর নিয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন।
বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা ইতালি, চীন, ওমান, দুবাই, সিঙ্গাপুর, জর্দান, মালয়েশিয়া, স্পেন, অস্টেলিয়া,সৌরিআরব, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার বিকেলের জেলা পুলিশ সুপারের কাযালয়ের বিশেষ শাখায় ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে প্রেরিত এক তালিকায় জানানো হয়েছে গত ১ মার্চ থেকে গত বুধবার পযন্ত বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১০ জনের বাড়ি নেত্রকোনায়। তাদের মধ্যে আটপাড়ায় ৬২ জন, সদর উপজেলায় ২১৪ জন, বারহাট্টায় ৩৪ জন, মদন ৪৮ জন, খালিয়াজুরি ২৫ জন, মোহনগঞ্জে ৭৩ জন, পূর্বধলায় ৭৫ জন, কলমাকন্দায় ২৪ জন, দুর্গাপুরে ৭৭ জন রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছেন।
পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, ‘গত ১ মার্চ থেকে গত বুধবার পযন্ত বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে নেত্রকোণার ৮১০ জন রয়েছেন। তাদের তালিকা জেলার ১০টি থানায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের নিয়ে টিম গঠন করে পুলিশ তাদের খুঁজে বের করে এবং কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ’
জেলা সিভিল সার্জন মো. তাজুল ইসলামের দাবি, ‘বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক নারী সর্দি-জ্বর থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের শরীরে কোন করোনাভাইরাসের লক্ষণ নেই। এখন পর্যন্ত তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন। তারপরও সতর্কতা হিসেবে তাদেরকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকজেন প্রায় ১২ দিনের মতো সময় চলে গেছে।’
জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির লোকজন সার্বক্ষণিক বিদেশ ফেরত ও তাদের পরিবারের লোকজনের ওপর নজরদারিতে রাখছেন। বিদেশ ফেরত লোকজনের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে মুক্তভাবে চলাফেরা না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই নিষেধ না মানেন তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেল-জরিমানা করা হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।