নেত্রকোণায় অপহরণের তিন মাস পর শিশু উদ্ধার 

স্টাফ রিপোর্টার: নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে বোবা মায়ের আড়াই বছরের অপহৃত শিশু উদ্ধার করে মায়ের কোলে তোলে দিয়েছে জেলা পুলিশ।  এঘটনায় অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত তেইশ অক্টোবর নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পিতার সাথে  অবস্থানরত বাক্-প্রতিবন্ধী মায়ের আড়াই বছরের শিশু অপহৃত হয়। এই সংবাদে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশুকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায়।  জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ অক্টোবর নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বোয়ালজানা গ্রামের জামাল উদ্দিনের শিশু কন্যা  রৌজা মনি শারীরিক  অসুস্থ হয়ে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ সময় শিশু রৌজা মনি মা উষাবানুর সাথে  হাসপাতালেই অবস্থান করছিল। হাসপাতালে অবস্থানকালে গত ২৩ অক্টোবর ১০ টার দিকে শিশুর মা তার পিতা ও আশপাশের লোকজনের ইশারায় জানায় যে, রৌজা মনিকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
উল্লিখিত ঘটনার সংবাদে পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলীর নির্দেশে তাৎক্ষনিক নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে শিশুকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া হিসেবে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। এরপর প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতালে উক্ত ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা না থাকায় এবং পিতা-মাতা কর্তৃক দেয়া সঠিক তথ্যের অভাবে অপহৃত শিশুকে তাৎক্ষনিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উক্ত ঘটনায় অপহৃত শিশুর বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মডেল থানার মামলা নং-৪৩, তারিখ-২৫/১০/২০১৯ খ্রিঃ, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধণী/২০০৩) এর ৭/৩০।
দীর্ঘ তদন্তের পর গত ৩০ জানুয়ারি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোণা শহরের  পারলা বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে নেত্রকোণা সদরের লক্ষীগঞ্জ চকপাড়া গ্রামের পল্লবের স্ত্রী  অপহরনকারী মোছাঃ সুলতানা (২৩),কে গ্রেফতার সহ আড়াই বছরের শিশু রৌজা মনিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর অপহরণকারী সুলতানা শিশু রৌজা মনিকে অপহরণের বিষয়ে নিজের দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।