নেত্রকোণার পাগলা বিলের বাধ রক্ষায় কৃষকদের মানবন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণার আটপাড়ায় পাগলা বিলের বাধ রক্ষায় মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিলটির পশ্চিম পাশে তারাচাপুর, হাতিয়া, দেবদ্বার, খলাপাড়া ও বাউসা গ্রামের কৃষকগণের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে মদন ও আটপাড়া উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় দুই হাজারের মতো নারী-পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন, আটপাড়ার হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা লাহুত মিয়া, নজরুল ইসলাম, লোকমান হেকিম, নুরুল ইসলাম, শাহজাহান মিয়া, জোৎস্না আক্তার, প্রদীপ সরকার, খোকন মিয়া, তারাচাপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, কাজি সিরাজ গনি, হাদিউল ইসলাম প্রমুখ।
স্থানীয় বাসিন্দা, জেলা প্রশাসকের কাযালয় ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাগলা বিলটি নেত্রকোণার মদন, মোহনগঞ্জ ও আটপাড়া এই তিন উপজেলার সংযোগস্থলে পড়েছে। তবে বিলের বেশিরভাগ জমি মোহনগঞ্জ সীমানায় রয়েছে। কিন্তু এসব জমির মালিক আটপাড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। বিলটির পশ্চিম পাশ দিয়ে পাগলা খাল প্রবাহিত হয়েছে। এই খালের পানি আটপাড়ার হাতিয়া, তারাচাপুর, দেবদ্বার, বাউসা, খলাপাড়া, মদনের বৈরিকান্দি ও বাগদাইর, মোহনগঞ্জের সোয়াইরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কৃষি কাজে সেচ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। কয়েক যুগ ধরে গ্রামের বাসিন্দারা খালের দুই স্থানে ‘আসার বাধ’ নামে দুটি বাধ দিয়ে পানি আটকিয়ে
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস পযন্ত তা কৃষিকাজে সেচ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই পানির ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ নির্ভর করে। বোরো ফসলই এখানকার কৃষকদের একমাত্র ফসল। এই ফসলের ওপরই ভরসা করে তাদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, আচার-অনুষ্ঠান ও সন্তানদের পড়ালেখা খরচ চালিয়ে যেতে হয়। খালটি জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি বছর মৎস্য আহরণের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর নয় লাখ ৭০ হাজার টাকায় ইজারা পায় মোহনগঞ্জের বার্তাকোনা মাঘ মাইজাটি সমবায় সমিতি। ওই সমিতির সভাপতি বার্তাকোনা গ্রামের মো. ছদ্দু মিয়া। কিন্তু ছদ্দু মিয়া ও তার লোকজন সমিতির নামে ইজারা নিয়ে খালটির বাধ কেটে পানি শুকিয়ে মাছ ধরতে চেষ্টা করেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে তারা গত রোববার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়, খালের বাধ কেটে দিলে সেচ সংকটে ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান হুমকির মুখে পড়বে।
হাতিয়া গ্রামের সোবাহান মিয়া, আবু বক্কর সিদ্দিক, কামাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা বাপ দাদার আমল থেকে এই বিলটি বাধ দিয়ে আটকানো পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করে আসছি। বিলটি প্রতি বছরই প্রশাসন ইজারা দেয়, ইজারাদাররা মাছ ধরেন। তাতে আমাদের ক্ষতি হয় না। কিন্তু এবার ছদ্দু মিয়া ও ফয়সাল মিয়া প্রভাব খাটিয়ে বাধ কেটে পানি শুকিয়ে মাছ ধরতে চাচ্ছেন। এতে করে আমাদের ফসল হুমকির মুখে পড়বে। আমরা বাধা দেওয়ায় তিনি বেশ কয়েক জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।’
হাতিয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে খালে বাধ দিয়ে পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু এবার ইজারাদার ছদ্দু মিয়া বাধটি কাটতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া হয়। এ কারণে তিনি উল্টো কৃষক জয়নাল মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, খোকন মিয়া, আলম মিয়া, মজিবুর রহমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ ডিসেম্বর মোহনগঞ্জ থানায় মাছ চুরির মামলা করেছেন।’
এ ব্যপারে ছদ্দু মিয়া বলেন, ‘সমিতির নামে এ বছর নয় লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে আমরা ইজারা নিয়েছি। পানি বেশি থাকায় মাছ ধরা যাচ্ছে না। বাধ কেটে দিলে আবার তা স্থানীয়রা বেধে ফেলেন। এ নিয়ে আমরাও সমস্যায় আছি।’
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাগলা খালের পানি ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষকরা কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ করেন। বাধ কেটে পানি শুকিয়ে ফেললে ফসল হুমকির মুখে পড়বে। আর পানি শুকিয়ে মাছ ধরার নিয়ম নেই। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলা হবে।’
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কৃষি সেচকাজে যেন ব্যঘাত না ঘটে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।