নেত্রকোণায় এক সপ্তাহে ১৩১ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণা শহরের মগড়া নদীর দুপাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনাগুলোর মধ্যে রোববার বিকেল পর্যন্ত ১৩১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। গত সোমবার বেলা ১২টার দিকে শহরের সাতপাই সেতুসংলগ্ন এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।
জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম এই অভিযানের উদ্বোধন করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লা আল মামুন, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাইযুম, নারায়ণ চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,মগড়া নদী নেত্রকোণা শহরে প্রবেশ করে শহরকে দুই ভাগ করেছে। শহরে আঁকা-বাঁকা এ পথ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। কিন্তু নদীর সাতপাই কালীবাড়ি থেকে পাটপট্টি সেতু পর্যন্ত বিস্তর এলাকা দখলদাররা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলেছে। সম্প্রতি জাতীয় নদী কমিশন মগড়া নদীর সাতপাই কালীবাড়ি থেকে পাটপট্টি সেতু পর্যন্ত দখলের তালিকা প্রকাশ করেছে।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে এই তালিকা তৈরি করে। গত সোমবার থেকে শুরু করা উচ্ছেদ অভিযানে রোববার বিকেল পর্যন্ত ১৩১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযান সর্ম্পকে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বুলবুল আহমেদ জানান, ‘নদী দখলমুক্ত করতে শুরু হওয়া অভিযানে রোববার বিকেলে পর্যন্ত বহুতল ভবনসহ ১৩১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ কার্যক্রমে ব্যাপক জনমত তৈরি হওয়ায় অনেকেই স্বেচ্ছায় তাদের বহুতল ভবন ভেঙ্গে ফেলছেন। অভিযান চলমান রয়েছে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটির সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল জানান, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর দু’পাড় দখলমুক্ত ও নদীটি খননের জন্য আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি নদীটি খনন করলে পানি প্রবাহ বেড়ে হারানো যৌবন ফিরে পাবে।’
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, ‘জেলায় ভেতরে নদীটির দৈঘ্য ৭০ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ‘মগড়া নদী পুনঃখনন’ নামের একটি প্রকল্প তৈরি করে পাউবোর প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে নদীটি খননের কাজ শুরু হবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।