অবৈধ ৩১৬ স্থাপনা চিহ্নিত: মগড়া নদী দখলমুক্ত অভিযান শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি: এক সময়ের চঞ্চল মগড়া নদী এখন দখল দূষণে পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। নেত্রকোণা জেলা জেরা শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মগড়া দখল আর ময়লা আবর্জনার কারণে দূষিত হয়ে পড়েছে। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রাণপ্রবাহ মগড়াকে রক্ষায় দাবী জানিয়ে আসছিল। দাবী ছিল নদীটির খননসহ দুই পাড় রক্ষার। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীটি রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়। দুই পাড়ে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নদীটির দুই পাড়ের ৩১৬ টি অবৈধ স্থাপনা দখল মুক্ত করতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। অভিযানের পর পৌরসভার উদ্যোগে নেয়া হবে সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হকের বাংলাদেশের নদ নদী গ্রন্থে লিখেছেন,“ময়মনসিংহের ফুলপুরের দক্ষিণমুখী প্রবাহ সুয়াই নদীর সঙ্গে মিলে নেত্রকোণা সদর উপজেলার রৌহা এলাকায় মগড়া নাম ধারণ করেছে। উৎপত্তি স্থান থেকে জেলা শহর হয়ে আটপাড়া উপজেলা ঘুরে ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মদন উপজেলার বারুণী নদীতে মিলিত হয়েছে। স্থানীয় পাউবো সূত্র জানায়, নেত্রকোণার ভেতরে নদীটির দৈর্ঘ্য ৭০ কিলোমিটার।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মড়া তেমন প্রশস্থ না হলেও বেশ গভীর ছিল। নেত্রকোণা শহরের ভেতরে চোখের কোণার মতো বয়ে গেছে। শহর গড়ে উঠেছে নদীর দুই পাশে। আঁকাবাঁকা পথ পাঁচ কিলোমিটার। শহরের উভয় অংশে যোগাযোগের জন্য ছয়টি সেতু আছে শহর এলাকায়। এই সেতুগুলো নাগড়া, আনন্দ বাজার সংলগ্ন,নাগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায়,নাগড়া থানা মোড়, মোক্তারপাড়া,কাটলী ও পাটপট্টী সেতু। এরমধ্যে মোক্তারপাড়ার সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহরের প্রধান সেতু এটি।
শহরের পাঁচ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে এরিমধ্যে জেলা প্রশাসন ৩১৬ টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও জেলা পানি উন্নয়ন হিসেবে অন্তত ১৫৭ টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে নদীটির দুই পাড়ে। এরমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০৪ টি উচ্ছেদ মোকদ্দমা ও ২০ টি দেওয়ানী মামলা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় লোকজন জানান,অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা আরো বেশি হবে। জেলা প্রশাসনের হালনাগাদ তালিকায় ৩১৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। শগরের আনন্দ বাজার থেকে শুরু করে নদীর দুই পাড়ে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সাতপাই,নাগড়া, তেরীবাজার, ছোটবাজার, মোক্তারপাড়া,কাটলী,পাটপট্টি পর্যন্ত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে।
মগড়া নদীর দুই পাড়ে অসংখ্য টয়লেট, বসতবাড়ির বর্জ্য,কারখানার বর্জ্য,হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে রোজ। পৌরসভার ১২ টি নর্দমার পানি ফেলা হচ্ছে নদীতে। চর্তুদিকে ময়লা ফেলার কারণে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে মগড়া নদী।
স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও সংস্কৃতিক সংগঠক সাইফুল্লাহ এমরান জানান, নদী হচ্ছে মায়ের মতো। প্রতিদিন ময়লা ফেলে মগড়া মাকে দূষিত করছি আমরা। একারণে নদীর পানি আর ব্যবহার করা যায়না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আগে ২০টি মতো ঘাট ছিল। এখন দু’একটা ছাড়া বাকিগুলো দখলদারের হাতে চলে গেছে। দখলমুক্ত ও নদীটি সংস্কার হলে শহরের চেহারা পাল্টে যাবে। আমাদের পরিবেশ প্রতিবেশ বাঁচাতে সবাই মিলে নদীকে রক্ষা করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন,পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সমন্বয়ে উচ্ছেদ শুরু হচ্ছে। উচ্ছেদের পর সীমানা চিহ্নিত স্থানে আপাতত বনায়নের কাজ করা হবে। এরপর নদীটি সৌন্দর্য্য বর্ধনের প্রকল্প নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, শহরের ৩১৬ টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে সবাইকে নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সোমবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।