আটপাড়ায় তুলি ও শম্পা এসএসসি’তে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ

আটপাড়া প্রতিনিধি: “দরিদ্রতা বাধা নয়, মেধা শক্তি প্রকাশ হয়” কথাটি বাস্তবে পরিণত করলেন নেত্রকোনার আটপাড়া তেলিগাতী বিএনএইচকে একাডেমী’র মেধাবি শিক্ষার্থী তুলি ও শম্পা। ২০১৯ সালে এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থী এসএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মেধা তালিকায় তারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। জানা যায়, তুলি রাণী দাস পিতৃহীন একজন এতিম, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। স্কুল জীবনে সে টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো: ইকবাল নূর লাভলু বলেন, এতিম, দরিদ্র ও অসহায় তুলি ও শম্মাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে এসএসসি ফরম পূরণসহ যাবতীয় খরচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। তুলি ময়মনসিংহের সৈয়দ নজরুল ও শম্পা তেলিগাতী সরকারি ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আছে।
সরজমিনে জানা যায়, এতিম তুলির বাড়ি তেলিগাতী ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামে। তুলির বসত ঘরটি অত্যন্ত জড়াজীর্ণ ঝুপড়ি ঘর। যাহা সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগি। তুলির মা চঞ্চলা রানী দাসের সঙ্গে কথা বললে, তিনি বলেন আমি গত ১০ বৎসর পূর্বে স্বামী জীবন চন্দ্র দাসকে হারিয়েছি। ছোট ছোট এতিম ২ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে অর্ধাহার ও অনাহারে জীবন যাপন করছি। একমাত্র ৩ শতক ভিটে বাড়ি ছাড়া আমার কোন জমি নেই। মাঝে মধ্যে গ্রামের ধনী ব্যক্তিদের জন্য কাঁথা সেলাই করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলছি। এ পর্যন্ত পাইনি কোন সরকারি সাহায্য। আমি বিধবা সত্ত্বেও চেষ্টা করে কোন বিধবা ভাতার কার্ড পাইনি। তিন সন্তানের মধ্যে তুলি মেঝো। আমার সন্তানেরা দরিদ্র হলেও দেখতে বেশ পরিচ্ছন্ন। বড় মেয়ে দিপা রানী দাসকে এইচএসসি পাশ করিয়ে অভাব ও দুষ্ট প্রকৃতির লোকের কৃ-দৃষ্টির কারণে অতি অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়েছি। এতেও শেষ রক্ষা হলো না। বড় মেয়ে দুই সন্তান নিয়ে স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে আমার সংসারে বুঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট ছেলেটি একই বিদ্যালয় থেকে এ বছর জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।
তুলির মা চঞ্চলা রানী বলেন, শুনেছি সরকারি ভাবে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। আপনার মাধ্যমে একটি ঘর পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে দাবী এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের নিকট আমার মেধাবী সন্তানদের জন্য সহায্যে কামনা করি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।