চলতে দেওয়া হচ্ছে না নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়কে বিআরটিসি দ্বিতল বাস

বিশেষ প্রতিনিধি: বহুল প্রত্যাশার পর স্থানীয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত রোববার নয়টায় নেত্রকোণা থেকে ময়মনসিংহ পযন্ত বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাস চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু এর চার ঘণ্টা পরই বেলা একটা থেকে সরকারি বাসগুলো বন্ধ করে দেয় বেসরকারি বাস মালিক পরিবহণ সমিতির নেতা-কর্মীরা।
সমিতির লোকজন হঠাৎ করে উল্টো পরিবহণ ধর্মঘট ডেকে ময়মনসিংহ বিভাগের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রাখে। এরপর প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন পযায়ে সভা করে একদিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও বিআরটিসির বাসগুলোকে এখনো চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, জেলা প্রশাসন ও বাস পরিবহণ মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার সকাল নয়টার দিকে জেলা শহরের নাগড়া কৃষিফার্ম এলাকায় নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ সড়কে চলাচলের জন্য বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। সংরক্ষিত মহিলা আসনের স্থানীয় সাংসদ ও জেলা মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবা রহমান খান প্রধান অতিথি হয়ে সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়াসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর পরই পরিবহন শ্রমিকরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিআরটিসির বাস চলাচলে বাধা দেওয়া শুরু করে। এর চার ঘণ্টা পর বেলা একটার দিকে বাসগুলো চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় পৌরসভার সামনের সড়কে নেত্রকোণাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এ দিকে মানববন্ধন ও সমাবেশের পর ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে বাস মালিক সমিতি নেত্রকোণা থেকে ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দূরপাল্লার সবধরনের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। প্রতিদিন নেত্রকোণা থেকে ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এর মধ্যে নেত্রকোণা থেকে ময়মনসিংহে মহুয়া সার্ভিস নামে ১১০টি ও নেত্র নামে আরো ৮০টি বাস চলাচল করে। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে সাতটা পযন্ত বাসগুলো চলে। প্রতিটি বাসে ৪৫টি করে আসন রয়েছে। এ ছাড়া নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় গ্রিনল্যান্ড, শাহজালাল, ইকরা, নেত্র, মায়ের দোয়সহ আরো অন্তত দুই শতাধিক বাস চলাচল করে। প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবহণ মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় সভার পর অবশেষে গত মঙ্গলবার রাত আটটা থেকে ধর্মঘট প্রত্যার করা হয়। বুধবার সকাল থেকে নেত্রকোণা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায় সকল সড়কের বাস। তবে সরকারের দেওয়া আরামদায়ক নতুন বিআরটিসির বাসগুলো এখনো চলতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে জেলাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ মন্তব্য করছেন। লক্কর ঝক্কর নেত্রকোণা থেকে ময়মনসিংহগামী ভোগান্তির সার্ভিসগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ রয়েই গেলো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুরাতন এই বাসগুলোতে শিশু ও নারীদের উঠতে খুব কষ্ট হয়। পুরুষদেরও চলতে হয় কুঁজো হয়ে। অধিকাংশ বাসেরই নেই কোন ফিটনেস। বাসগুলোর অনেক চালকই অদক্ষ। ৩৮ কিলোমিটার এই পথ যেতে ভাড়া দিতে হয় ৫৫ টাকা করে। অথচ বিআরটিসির সিটগুলো যেমন আরামদায়ক তেমনি ভাড়াও মাত্র ৪০ টাকা।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যার দিকে বলেন, ‘বিআরটিসি বাস চলাচলের জন্য পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এ বিষয়ে সমাধান মিলবে।’
জেলা বাস পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ খান বলেন, ‘ময়মনসিংহ বিভাগীয় নেতারাও এ নিয়ে সেখানকার প্রশাসনের আলোচনায় বসছেন। হয়তো দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।