বিআরটিসি বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে নেত্রকোণায় মানববন্ধন: বাস চলাচল বন্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণা থেকে পাশের জেলা ময়মনসিংহের দূরত্ব মাত্র ৩৮ কিলোমিটার। কিন্তু এই পথে চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য ভালোমানের কোন বাস বা গেইটলক সার্ভিস নেই। দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীরা গেইট লক বাসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন। অবশেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত রোববার সকাল থেকে ওই সড়কে বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাস সার্ভিস চালু করা হয়। এদিকে সোমবার বিকেল থেকে নেত্রকোনা জেলা মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক নেতারা মানববন্ধনের পর থেকে সকল প্রকার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
শহরের নাগড়া কৃষিফার্ম এলাকা থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে আধাঘণ্টা পর পর বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ ভাড়া ধরা হয় ৪০ টাকা এবং শ্যামগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ ২০ টাকা।
সকাল নয়টার দিকে নাগড়া কৃষিফার্ম এলাকায় ঘটা করে সার্ভিসটির উদ্বোধন করে সংরক্ষিত মহিলা আসনের স্থানীয় সাংসদ ও জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবা রহমান খান শেফালি। এ সময় জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়াসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের দিনই ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বাধার মুখে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিআরটিসি বাসগুলোকে। এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার বেলা ১১ টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ হাবিবা রহমান খান।
নেত্রকোণাবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি নারীনেত্রী বেগম রোকেয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ এমরান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছাড়াও বক্তব্য দেন, মহিলা পরিষদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাহেজা বেগম, উদীচীর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক চপল দত্ত, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দা শামছুন্নাহার বিউটি, কবি স্বপন কুমার পাল, স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপক কোহিনুর বেগম, ব্যাকের জেলা প্রতিনিধি প্রবাল সাহা, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) দেব শংকর রায়, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মারুফ হাসান খান, সাংবাদিক একেএম আব্দুল্লাহ, জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলপনা বেগম, সংস্কৃতিকর্মী শিল্পী ভট্টাচার্য, ছড়াকার সঞ্জয় সরকার, নবনাট্য সংঘের সভাপতি সালাউদ্দিন খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, নেত্রকোণা থেকে ময়মনসিংহে চলাচলের কোন ভালো যানবাহন নেই। শহরের পারলা এলাকায় ঢাকা বাসস্টেশন থেকে যে বাসগুলো ময়মনসিংহে চলাচল করে তা খুবই পুরাতন ও নিম্নমানের। অধিকাংশ বাসের কোন ফিটনেসই নেই। চালকরাও অদক্ষ। এ ছাড়া কোন গেইট লট সার্ভিস নেই। ৩৮ কিলোমিটার পথে বাস ভাড়া দিতে হয় ৫৫ টাকা করে। বেশির ভাগ যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিতে করে ৮০ থেকে ১০০টাকা ভাড়া দিয়ে চলাচল করেন। গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বিআরটিসি ১০টি বাস ওই পথে চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বাধার মুখে ওই দিনই বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে মানববন্ধনকারীরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বাস পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ খান বলেন, ‘আমরা পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা বিআরটিসির কোন বাস বাধা দেইনি। সরকারি গাড়ি চলাচল ও সিদ্ধান্তে আমাদের বাধা দেওয়ার কোন কারণ নেই। ময়মনসিংহ ডিপোতে হয়তো সমস্যা থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে মানববন্ধন করার কোন প্রয়োজন ছিল না। মানববন্ধন থেকে বক্তারা আমাদের নিয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। তা ঠিক হয়নি।’ ময়মনসিংহ বিভাগের সিদ্ধান্তে সোমবার বিকেল থেকে এই সড়কে জেলা মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক নেতারা মানববন্ধনের পর থেকে সকল প্রকার বাস চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, ‘নেত্রকোণা পরিবহন মালিক সমিতির সদস্যদের নিয়ে সোমবার সকালে বসা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন বিআরটিসি চলাচলে এ নিয়ে তাদের কোন আপত্তি বা বাধা নেই। ময়মনসিংহে একটু ঝামেলা হচ্ছে। সেখাকার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলছেন। হয়তো আজকের মধ্যেই সমস্যা কেটে যাবে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।