নেত্রকোণায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন তদন্ত কমিটি গঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে অপারেশনের পর ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় দুইজন প্রসূতির মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার প্রায় দেড়ঘন্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনে বেলা ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু মোড় দক্ষিন কাটলী এলাকাবাসী ও নেত্রকোণা উন্নয়নে নাগরিক আন্দোলন এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন-নেত্রকোনা পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ হেলাল উদ্দিন হেলাল, নেত্রকোণা উন্নয়নে নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খানে আলম খান, এলাকাবাসী অ্যাডভোকেট মনোয়ার জাহান পারভেজ, আটপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মহিবুজ্জামান খান, সমাজ সেবক আবদুল হামিদ, মো. করিফুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।
নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নার্স, আয়া ও ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু ও হাসপাতালে আগত রোগী, রোগীরস্বজন, সংবাদ কর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ, কর্তব্য কাজে অবহেলা, নানা অনিয়ম, রোগীদের নি¤œমানের সেবা প্রদানের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন থেকে সিভিল সার্জন ডা. মো. তাজুল ইসলাম খান, নেত্রকোণা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও গাইনী সার্জন ডা. রঞ্জন কুমারকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণের দাবী করা হয়। তা না হলে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারীরা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে জেলার মোহনগঞ্জের গাগলাজোড় ইউনিয়নের বড়ান্তর গ্রামের জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে লিমা চৌধুরী ও নেত্রকোনা পৌর সভার বঙ্গবন্ধু মোড় দক্ষিন কাটলীর বাসিন্দা লোকমান মিয়ার স্ত্রী ইয়সমিন আক্তারের অপারেশন হয়। লিমা চৌধুরী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ও পরদিন বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইয়াসমিন আক্তার মারা যান। এ ঘটনায় ওই দুই প্রসূতির স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক জান্নাত আফরোজ নূপুরের কাছে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
অপর অভিযুক্ত ডা. রঞ্জন কুমার কর্মকার জানান, দীর্ঘদিনের কর্মময় জীবন তার। দু’একটি দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু না। তাছাড়া কোনো চিকিৎসক চায় না রোগীকে মেরে ফেলতে।
নেত্রকোণা জেলার সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম খান জানান, প্রসূতি লিমার মৃত্যুর ঘটনায় সার্জারি কনসালট্যান্ট শফিকুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। অপরদিকে মারা যাওয়া ইয়াসমিনের মৃত্যুর বিষয়টি দেখবেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কারণ লিমার মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।