চাহিদা বাড়ছে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের শুটকীর

বিশেষ প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ,খালিয়াজুরী, মদন, আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার প্রতিটি হাওর ধরা পরছে দেশী জাতীয় বিভিন্ন মাছ। এরমধ্যে বেশি আসছে তাজা পুঁটি মাছ।
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর, খালিয়াজুরীর চাকুয়া,মদনের কাইটাল ইউনিয়নের কেশজানি গ্রামে এই শুটকী তৈরী হচ্ছে। নারী-পুরুষ এমনকি শিশুদের সহযোগিতায় সংগ্রহকৃত তাজা পুঁটি তাৎক্ষণিক কেটে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে শুটকির জন্য করা হচ্ছে প্রস্তুত।
একটি দল পুঁটি কাটছেন অপর দল তা ধুয়ে পানি ঝরিয়ে লবণ মাখানোর পক্রিয়া তৈরি করছেন। পানি ঝরিয়ে মাচায় রোদে দু’তিন দিন শুকানো পর তৈরি হয় শুটকি।
রোদ থাকলে পুরো পক্রিয়াটি সম্পন্ন করে শুটকি তৈরি করতে সময় লাগে ২-৩ দিন। মন খানেক শুটকি তৈরি করতে গেলেও সেজন্য লোকবলের প্রয়োজন হয় অর্ধ শতাধিক। তারা প্রত্যেকে ভোর ৫ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কাজ করেন।
কেউ কেউ শুধু মাছের তেল সংগ্রহ করতেই মাছ কেটে দেন নারী শ্রমিকরা। পরে তাদের সংগ্রহকৃত মাছের তেল ১০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি করেন। এবং সেই তেল চেপা (শিধল) তৈরির জন্য ব্যবসায়ীরা কিনে নেন। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় চেপা তৈরির ক্ষেত্রে সেই মাছের তেলটুকু ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে পুরুষ শ্রমিকরা জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা পারিশ্রমিকে শুটকি তৈরির কাজ করেন।
রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় নেত্রকোনায় তৈরি তাজা পুঁটির এই শুটকি।
একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৫-২০ মন শুটকি পাঠানো বা বিক্রি করা সম্ভব হয়। পুঁটি মাছের আকার ভেদে ১০-৪০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয় এসব শুটকি।
মদনের শুটকি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম খান। তিনি কাইটাল ইউনিয়নের কেশজানি গ্রামের মৃত মোতালেব খানের ছেলে। লাভ-ক্ষতির হিসেব না কষে তিনি এ পেশায় আছেন প্রায় একযুগ ধরে।
তার মতো একই গ্রামের বাসিন্দা একই পেশায় জড়িত আবেদ আলী, নিজাম উদ্দিন, আহাদ মিয়া ও মোবারক।
তাদের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে যারা সচ্ছল তারা এককভাবে ব্যবসা করলেও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ব্যবসায়ীরা কয়েকজন মিলে শুটকি মাছ তৈরির ব্যবসা পরিচালনা করেন।
শুটকি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, দিন যত বাড়ছে দূর-দূরান্তে বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে তত নেত্রকোনায় পুঁটি মাছের তৈরি শুটকির কদর। চাহিদা মিটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে হচ্ছে নেত্রকোনার পুঁটি মাছের শুটকি।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের গাগলাজুর বাজারের ব্যবসায়ী কাজল চৌধুরী জানান,‘এই এলাকার কয়েকশ মানুষ মাছ ধরে শুটকী তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেকেই এনজিও কিংবা দাদন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা এনে শুটকীর ব্যবসা করছে। তারপরও তারা বেশ লাভবান হচ্ছে।
খালিয়াজুরী এলাকার স্বাগত সরকার শুভ জানান, হাওরে পানি কমতে শুরু করলে ছোট মাছ ধরা পড়ে। এই মৌসুমে হাওরের হাজার হাজার মানুষ মাছ ধরে শুটকি তৈরী করে জীবিকা চালায়। এর মধ্যে এক শ্রেণীর দাদন ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটে। দরিদ্র জেলেদের হাতে টাকা থাকেনা বাণিজ্যিক ভাবে মাছ কেনে তা থেকে শুটকী করার। আর একা মাছ ধরে শুটকী করলেও খুব বেশি লাভবান হওয়া যায়না। কারণ মৌসুম থাকে অল্প সময়।
শুটকি তৈরির এ ব্যবসায় এখন পর্যন্ত ১৫-২০ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়েছেন তিনি। অতীতের হিসেব মতে এতে বছর শেষে বা ছয় মাস পরে ২/৪ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হয়।
জেলেদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতি কেজি তাজা পুঁটি মাছ ১৫০-২২০ টাকা দরে কিনতে হয়। বড় আকারের মাছের দাম বেশি দাম নেন জেলেরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারী-বেসরকারী পর্যায় থেকে সহযোগীতা পেলে এই ব্যবসা করেও ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখা সম্ভব।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।