আটপাড়ায় শান্তিপূর্ণ ভোট,উপস্থিতি কম

স্টাফ রির্পোটার: সর্বশেষ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নেত্রকোনার আটপাড়ায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদেরও তেমন কোনো অভিযোগ নেই। সোমবার সকাল নয়টায় শুরু হয়ে সাতটি ইউনিয়নে ৫৩টি কেন্দ্রে ২৪৪টি বুথ কক্ষে ভোট গ্রহণ চলে বিকেল পাঁচটা পযন্ত। মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৭ জন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ছয়জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোননীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম নৌকা প্রতীক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মহিবুজ্জামান খান মোটরসাইকেল প্রতীক, আওয়ামী লীগ নেতা মো. হুমায়ুন কবির ঘোড়া প্রতীক, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোকাম্মেল হোসেন আনারস প্রতীক, মো. নজরুল ইসলাম দোয়াত কলম প্রতীক ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তৌছিফুল ইসলাম খান ধান শীষ প্রতীকে। সোমবারের নির্বাচনে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুওজ ইউনিয়নের নাজিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বেলা পৌনে একটার দিকে মেহেদি হাসান (১৪) ও মো. মাসুদ মিয়া (১৪) নামে দুই কিশোরকে আটক করা হয়। মেহেদি হাসান দারাজ গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। আর মাসুদ মিয়া একই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তারা উভয়েই নাজিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সুরঞ্জন সরকার জানান, মেহেদি ও মাসুদ জাল ভোট দেওয়ার চেষ্ট করছিল। পরে আটকের পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল চারটা পযন্ত অভয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুর্গাশ্রম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ অন্তত ২১টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন লক্ষণীয় নয়। যে সব ভোটর উপস্থিত রয়েছেন তাদের মধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি একটু বেশি দেখা গেছে। তবে মাঝামাঝি সময় ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা সন্তোষজনক। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্গাশ্রম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে কেন্দ্রের বাইরে তিন চার জন জনের মতো নারী ভোটার রয়েছেন।

ভেতরে প্রবেশ করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে জানা গেছে ১ হাজার ৬২৫ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৪৯ জন ভোট দিয়েছেন। বেলা সোয়া ১২টার দিকে মাটিকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে বেশ কিছু নারী ও পুরুষ ভোটার দেখা যায়। এ সময় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, ১ হাজার ৩১৩ ভোটারের মধ্যে ৩৩২ জন ভোট দিয়েছেন। দুপুর একটা দিকে তেলিগাতি বিএনএইচকে একাডেমির কেন্দ্রের বাইরে বেশ কিছু লোক দেখা গেলেও ভেতরে গেলে হাতে গনা ছয়জন ভোটার ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবির ইবনে হাফিজ বলেন, ২ হাজার ৬৮৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন ভোট দিয়ে গেছেন। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ইকরাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে দেখা, বাইরে প্রায় দুই শতাধিক লোকের সমাগম কিন্তু কেন্দ্রের ভেতরে ১১ জন নারী ও তিনজন পুরুষ ভোটার ভোট দিতে এসেছেন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আজিজুল হক জানান, ২ হাজার ২৬৫ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান ১ হাজার ৬৪৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৫০ জন ভোট দিয়েছেন।


জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মোতাহ্সিম বলেন, ‘নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের সহযোগিতায় সুষ্ঠু সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোথায়ও কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।’
জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, ‘ভোটারা র্নিবিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ৮৪০ জন পুলিশ, ৫৫ জন র‌্যাব সদস্য, ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, তিন প্লাটুন বিজিবিসহ ১৬৪০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেন।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।