তিনদিন অনাহারে বৃদ্ধ ! খাবার নিয়ে গেলেন ইউএনও

বিশেষ প্রতিনিধি : শালি নেওয়াজের দাবি শতকের ঘর ছুঁয়েছে তার বয়স। সন্তানরা থাকতেও না খেয়েই কাটাতে হচ্ছে দিনরাত। টানা তিনদিনের অনাহারের পর ক্ষুধায় নিস্তেজ হয়ে পড়া এই বৃদ্ধের পেটে পড়েনি কোনো দানাপানি! তাতেও জন্মদাতার প্রতি এতোটুকু মায়া বা মানবিকতা জন্ম নেয়নি সন্তানদের মনে। অমানবিকতার এমন খবর এককান দুকান করে শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের কানে পৌঁছে। পরে সোমবার দুপুরে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন ওই বৃদ্ধের বাড়িতে খাবারদাবার নিয়ে যান। পিতৃ শ্রদ্ধায় নিজ হাতে তিনি অসহায় বৃদ্ধের মুখে খাবার তোলে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত দেখান তিনি।

অসহায় এই বৃদ্ধ উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের বাসিন্দা। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও বানিন জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাই তিনদিন ধরে সন্তানরা বৃদ্ধ এই মানুষটিকে খাবার দিচ্ছেন না। না খেয়ে নিস্তেজ আর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয় অসহায় মানুষটির জন্য। পরবর্তী সময়ে খাওয়ার জন্যও বেশকিছু শুকনো খাবার বৃদ্ধের হাতে তোলে দেয়া হয় তার হাতে। অপরদিকে বৃদ্ধের সন্তান ও পুত্রবধূদের ক্ষমা প্রার্থনা করানো হয়। পাশাপাশি তাদের কাছে আইনি দিকগুলো তোলে ধরে বৃদ্ধের খাবার নিয়মিত চালিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। ব্যতিরেক প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অচিরেই বৃদ্ধ শালিকে একটি বয়স্কভাতা কার্ড বন্দোবস্ত করে দেয়া হবে বলেও জানান, উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা। শালি নেওয়াজের পরিবারে তার কর্মজীবী দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রীসহ নাতি-নাতনি রয়েছেন। তাঁর বড় ছেলে হাবিজ মিয়া (৭২) ও ছোট ছেলে রশিদ মিয়া (৬৬) সহ চার মেয়ে রয়েছে। প্রত্যেকেই স্ব স্ব সংসার নিয়ে দিনাতিপাত করছেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।