ইউপি চেয়ারম্যানকে জেলে পাঠিয়ে রাতের আঁধারে মার্কেট ভেঙ্গে জায়গা দখলে নিল প্রতিপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার: ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সাইনবোর্ড মোড়ে একের পর এক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানকে জেলে পাঠিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে কোটি টাকার মার্কেট দখল করেছে প্রতিপক্ষ। এসময় বোলডোজারের মাধ্যমে ৩০টিরও বেশী দোকান ভাংচুর এবং সেখানে থাকা সব মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সাইনবোর্ড মোড়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ভুট্রোর সাথে বিরোধ চলছিল একই এলাকার সবিনুর রহমান, মোখলেছুর রহমানসহ কয়েকজনের। স্থানীয় চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ভুট্রো বিরোধপূর্ন জমিতে কারো অনাধিকার হস্তক্ষেপ বন্ধে আদালতে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করার প্রেক্ষিতে গত ২৭ শে আগষ্ট আদালতের নিষেধাজ্ঞা রায় নিয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ মার্কেটে কারো প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞা জারির ৫ দিনের মাথায় মার্কেট দখল করতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শুক্রবার গভীর রাত থেকে বোলডোজার দিয়ে ভাংচুর শুরু করে বিল্ডিং গুড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষ মোখলেছুর রহমানসহ তার সহযোগিরা।

এ সময় মার্কেটে থাকা ত্রিশ দোকান ভাঙচুরসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় মোখলেছের সহযোগিরা। সকালে খবর পেয়ে মার্কেটে থাকা ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা মাকেটের সামনে আসলে তাদের দোকানে থাকা মালামালের কোন হদিস পাচ্ছেনা। তারা দোকানের মালামালের ব্যপারে মুখলেছুর রহমানের সাথে কথা বলতে চাইলে তার সহযোগিরা তাদের নানাভাবে হুমকি প্রদান করে মার্কেট এলাকা থেকে সড়িয়ে দিচ্ছে। দোকানের ভাড়াটিয়ারা মার্কেট এলাকায় অবস্থান করতে পারলেও পুলিশের গ্রেফতার আতংক ও স্থানীয় মোখলেছের সহযোগীদের অবস্থানে ভয়ে এ এলাকায় যেতে পারছেনা বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যানের স্বজনরা। রাতে মার্কেট ভাঙচুরের সময় পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের স্বজনদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে হযরানির অভিযোগ করেন।

গত ২১শে আগষ্ট আমিরাবাড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর ভুট্রোকে মার্কেটের সামনে বসে থাকা অবস্থায় কোন মামলা ছাড়াই আটক করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ ও ত্রিশাল থানা পুলিশের এক যৌথ টিম। আটকের পর দিনে একমাস আগে সংগঠিত ঘটনা দেখিয়ে দুটি চাদাবাজির মামলায় কোর্টে প্রেরন করে চেয়ারম্যানকে। পরের দিন চেয়ারম্যানকে জেলে রেখে ২৪ ও ২৫শে আগস্ট আরো দুইটি চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলা দিয়ে তার ছোট ভাই আছাদুলকে আটকের পরের দিন মার্কেট দখলে নেয়ার রাতারাতি মার্কেটের চারপাশে দিয়ে টিনের ব্যারিকেড দিয়ে মার্কেট বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ মোখলেছ বাহিনী।

এসব বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পুলিশের কাছে আসতে চাইলে অভিযোগ না নিয়ে তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য হয়রানি করার অভিযোগ চেয়ারম্যানের স্বজনরা। মার্কেটের ব্যবসায়ী প্রীতি ইন্না গার্মেন্টসের মালিক মনির চাদাবাজির মামলায় পলাতক। অপর ব্যবসায়ী নুশরাত ষ্টোরের মালিক আব্দুল্লাহ মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবনযাপন করছে। এদিকে তার দোকান ভাংচুর করে প্রায় দশ লক্ষ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ তাদের স্বজনরা। এদিকে জমির মালিকানা দাবী করা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা জমির প্রকৃত মালিক। দীর্ঘদিন স্থানীয় চেয়ারম্যান তা অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছিল। আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলে আমরা আমাদের জমির দখলে নিয়েছি।

ত্রিশাল থানা ওসি আজিজুর রহমান বলেন, বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে তবে মার্কেট দখলের ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অন্য একজনের মাধ্যমে সংবাদ পেলে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এব্যাপরে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।