সিলেটে নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার : স্বামী-শাশুড়িসহ আটক ৩

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট মহানগরীর পশ্চিম পাঠানটুলায় প্রিয়াংকা তালুকদার শান্তা (২৯) নামের এক নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবী আবাসিক এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের প্রকৌশলী স্বামী, শশুড়, শাশুড়ী ও সহ ৩ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হল, স্বামী দিবাকর দেব, শ্বশুর সুভাস দেব ও শ্বাশুরি রত্না দাস।
নিহত প্রিয়াংকা তালুকদার শান্তা সিলেট পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি পশ্চিম পাঠানটুলার পল্লবী আবাসিক এলাকার ২৫ নম্বর বাসার দিবাকর চন্দ্র দেব কল্লোলের স্ত্রী।
প্রিয়াংকার পৈত্রিক বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার গঙ্গাধরপুর গ্রামে। তার বাবা ঋষিকেশ তালুকদার । তার মৃত্যু রহস্যজনক বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা।
প্রেম করে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন দিবাকর চন্দ্র দেব কল্লোল ও ডা. প্রিয়াংকা তালুকদার শান্তা। কাব্য নামের তাদের তিন বছরের এক শিশু পুত্র রয়েছে।
নিহত প্রিয়াংকার বাবা ঋষিকেশ তালুকদার বললেন,‘৫ বছর আগে সিলেটের পাঠানটুলার সুভাস দেব ও রত্না দাস’এর ছেলে প্রকৌশলী দিবাকর দেব কল্লোল’এর সঙ্গে বিয়ে হয় প্রিয়াংকার। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে (স্বামী, শ্বাশুরি ও ননদের) বনিবনা হচ্ছিল না প্রিয়াংকার।
ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো প্রতিনিয়ত। রবিবার সকালে আমাকে জানানো হয়, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এটি বিশ্বাস করিনি আমি। আমি নিশ্চিত আমার মেয়েকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এজন্যই জালালাবাদ থানায় মেয়ের শ্বশুর সুভাস দেব, শ্বাশুরি রত্না দাস ও জামাই দিবাকরকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছি।’
সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি শাহ মো. হারুনুর রশীদ বলেন, রোববার সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট পেলে ও তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে। আসামীদের আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।